বিজেপির এই ‘মিশন ২০২৬’ আসলে কী? দলের রণনীতি বুঝতে আমরা কথা বলেছিলাম নেতা থেকে শুরু করে একদম নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে।
নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি: ‘বুথ আগলালে তবেই জয়’
বিজেপির রাজ্য দপ্তরের এক প্রভাবশালী নেতার মতে, এবার লড়াইটা আর শুধু জনসভার নয়, লড়াইটা প্রতিটি বুথের। তিনি বলেন:
“আমরা এবার শুধু প্রার্থীর মুখে তাকিয়ে নেই। অমিত শাহজি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নেতাদের ড্রয়িং রুম পলিটিক্স ছাড়তে হবে। জেলা থেকে শুরু করে অঞ্চল স্তরে ওয়ার রুম তৈরি হয়েছে। আমাদের মূল ফোকাস বুথ সুরক্ষা। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে প্রতিটি বুথ ঘিরে রাখা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আনা— এটাই আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ।”
রাজ্য বিজেপির অন্দরে সমন্বয় বাড়াতে আরএসএস-এর প্রাক্তন প্রান্ত প্রধান প্রদীপ যোশীকে দায়িত্ব দেওয়া এবং দিলীপ ঘোষকে ফের ময়দানে সক্রিয় করা বড় কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মাঠের লড়াই: কর্মীদের চোখে ‘পরিবর্তন যাত্রা’
হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শুরু হওয়া ‘পরিবর্তন যাত্রা’ এখন সারা রাজ্যে আলোড়ন তুলছে। উত্তর ২৪ পরগনার এক বিজেপি কর্মী সুমিত দাসের (নাম পরিবর্তিত) কথায় উঠে এল মাঠের বাস্তব চিত্র:
“আগেরবার আমরা আবেগে ভেসেছিলাম, কিন্তু বুথ সামলাতে পারিনি। এবার আমাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে কীভাবে জাল ভোট রুখতে হয়। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি যখন আমাদের এলাকায় এলেন, তখন মানুষের ভিড় দেখে বুঝেছি মানুষ তিতিবিরক্ত। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাচ্ছি যে, এবার ভোটটা আপনার নিজের অধিকার রক্ষার।”
জনসাধারণের কণ্ঠস্বর: কী ভাবছেন সাধারণ ভোটার?
নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন। কলকাতার ভবানীপুর এলাকার এক গৃহবধূ অনিতা চ্যাটার্জি বলেন:
“আমরা চাই শান্তি। প্রতিবার ভোটের আগে ভয় লাগে। এবার শুনছি অনেক বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে। রেশন দুর্নীতি বা চাকরি চুরির কথা তো সব কাগজেই দেখি, কিন্তু আমাদের পাড়ার শান্তি আর মেয়েদের নিরাপত্তাটাই আসল। বিজেপি যদি সেটা দিতে পারে, তবে মানুষ ভাববে।”
অন্যদিকে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহমান শেখের কথায় ধরা পড়ল ভিন্ন সুর:
“উন্নয়ন তো হয়েছে, কিন্তু দলাদলিটা বড্ড বেশি। বিজেপি এবার বলছে তারা বাঙালির কথা বলবে। যদি সত্যিই সাধারণ মানুষের পেটের কথা বলে, তবে লড়াই জোরদার হবে। তবে বুথে ঝামেলা না হলেই ভালো।”










