বর্তমান সময়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম কিংবা বিদেশ সফরের খবরাখবর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি নিয়মিত রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই ডিজিটাল পদচারণা এখন আর কেবল ব্যক্তিগত ডায়েরিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি পরিণত হয়েছে অফিস পলিটিক্সের এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী হাতিয়ারে। অফিসের করিডোর থেকে শুরু করে এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে এই ‘লাইক-কমেন্ট’ সংস্কৃতি।
অনেকে মনে করেন সোশ্যাল মিডিয়া কেবল বিনোদনের মাধ্যম, কিন্তু কর্পোরেট এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে এটি এখন নজরদারির একটি মাধ্যম। কর্মকর্তারা ছবি বা ভিডিও আপলোড করার পর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন যে তাদের অধীনস্থ বা সহকর্মীদের মধ্যে কে কে রিয়্যাকশন দিচ্ছেন বা কী ধরনের মন্তব্য করছেন।
অনেক ক্ষেত্রে এই লাইক বা পলিটিক্যালি কারেক্ট কমেন্ট করাটাই এখন আনুগত্য প্রকাশের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা এই ডিজিটাল স্তুতিতে পিছিয়ে থাকেন, সহকর্মীদের আড্ডায় তাদের নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা হওয়া এখন খুবই সাধারণ চিত্র।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো, পেশাগত দক্ষতার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তাকে অনেক সময় বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের তুষ্ট রাখাটা যখন জরুরি হয়ে পড়ে, তখন সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে ওঠে শর্টকাট রাস্তা।
এসিআর-এ মন্তব্যের ক্ষেত্রেও পরোক্ষভাবে এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটে, যা মূলত ডিজিটাল চামচামিকে উৎসাহিত করছে। এর ফলে প্রকৃত যোগ্য কর্মীরা অনেক সময় মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন এবং অফিসের কাজের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে।
এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট দেয়াল টানা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে মূল্যায়ন যেন কেবল কাজের মান এবং মেধার ভিত্তিতেই হয়, কোনো ছবির নিচে দেয়া ‘লাভ রিয়্যাক্ট’ বা কৃত্রিম প্রশংসার ভিত্তিতে নয়। নতুবা এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা কেবল দাপ্তরিক শৃঙ্খলাকেই নষ্ট করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
নতুন নতুন কন্টেন্টের আপডেট পেতে www.businesstoday24.com ফলো করুন