বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের আর্থিক খাতের এক সময়ের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড বর্তমানে এক গভীর সংকটকাল পার করছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) করতে না পারা এবং আর্থিক বিবরণী হালনাগাদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তার জৌলুস হারিয়ে এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।
বাজার পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র
গত ৮ এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ার দর সামান্য বেড়ে ১৩.২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে গত এক বছরের (৫২ সপ্তাহ) দর ওঠানামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শেয়ারটি সর্বোচ্চ ১৯.১০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৮.৯০ টাকায় নেমে এসেছিল। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ১,৬৬৯.৮১৫ মিলিয়ন টাকা, যা এর অতীত ঐতিহ্যের তুলনায় বেশ হতাশাজনক।
আর্থিক পারফরম্যান্সের নেতিবাচক ধারা
কোম্পানির দেওয়া সর্বশেষ অডিটেড রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে বড় ধরনের কোনো নিয়ন্ত্রক সভা বা লভ্যাংশ ঘোষণার তথ্য নেই। ২০১৯ সালে ১৫% নগদ ও ৫% বোনাস লভ্যাংশ দিলেও এরপর থেকে বিনিয়োগকারীরা নতুন কোনো প্রাপ্তি ছাড়াই অপেক্ষায় আছেন। ২০২০ সালের ৯ মাসের অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনে ইপিএস ১.৬৮ টাকা দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।
ঋণ ও মূলধনী কাঠামো
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী ঋণের পরিমাণ ছিল ৬,৮৫১.৬৮ মিলিয়ন টাকা। বিপরীতে মূলধন ও সঞ্চিতির (Reserve & Surplus) পরিমাণ ৫,৯৭৭.৬ মিলিয়ন টাকা। বিপুল পরিমাণ ঋণ এবং স্থবির ব্যবসায়িক কার্যক্রম কোম্পানির তারল্য সংকটের দিকে ইঙ্গিত দেয়। বর্তমানে মাত্র ৩টি শাখা এবং ২৫৫৩ জন গ্রাহক নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
শেয়ার ধারণের ধরনে পরিবর্তন
গত কয়েক মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ছাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ছিল ৩২.১৮%, যা মার্চ শেষে কমে ৩১.৮৯% এ দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে সাধারণ পাবলিকের শেয়ার ধারণ ১৫.৫৬% থেকে বেড়ে ১৫.৮৫% হয়েছে। সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সরে যাওয়া এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়া কোনো দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সংকেত হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশ্লেষকের অভিমত: উত্তরা ফাইন্যান্সের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কঠোর রেগুলেটরি সংস্কার এবং ঝুলে থাকা অডিট সম্পন্ন করা। ২০২০ সালের পর থেকে কোনো এজিএম না হওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে ফেলেছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার হওয়ার কারণে এখানে বিনিয়োগ বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন অডিটেড তথ্য এবং নিয়মিত লভ্যাংশের নিশ্চয়তা না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: ডিএসই










