প্রতিকূল আবহাওয়ায় অসমে চায়ের উৎপাদন কমার আশঙ্কা।
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা কার্যকর হচ্ছে।
ক্ষুদ্র চা বাগান মালিকদের জন্য বিশেষ সহায়ক নীতিমালার দাবি।
খরার প্রকোপ ও নতুন পোকামাকড়ের আক্রমণে পাতার গুণমান হ্রাস।
কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: বিশ্বের বৃহত্তম চা উৎপাদনকারী অঞ্চল অসমে বর্তমানে গভীর সংকট বিরাজ করছে। আবহাওয়ার চরম খামখেয়ালিপনা এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের চাপে ঐতিহ্যের এই শিল্প এখন অস্তিত্বের লড়াইয়ে লিপ্ত। বিশেষ করে বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত তাপপ্রবাহের কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় ফ্লাশের (early-season flush) উৎপাদনে ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাওয়ায় অনেক বাগানেই খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা চায়ের চিরচেনা সুগন্ধ ও কড়া স্বাদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে রাজ্য সরকার ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দৈনিক মজুরি ৩০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় শ্রমিকদের মজুরি ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা এবং বরাক উপত্যকায় ২৫৮ টাকায় দাঁড়াচ্ছে।
যদিও এটি শ্রমিকদের জন্য স্বস্তির খবর, তবে বাগান মালিকদের মতে, চায়ের নিলাম মূল্য না বাড়ায় এই অতিরিক্ত মজুরি প্রদান তাদের জন্য বিশাল আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র চা চাষিরা (STGs), যারা অসমের মোট চা উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক জোগান দেয়, তারা সার ও শ্রমের ক্রমবর্ধমান মূল্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
ক্ষুদ্র চা বাগান মালিকরা এখন সরকারের কাছে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) এবং ঋণের শর্ত শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পুরনো চারা গাছ প্রতিস্থাপন এবং সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা সরকারি অনুদান ছাড়া সম্ভব নয়।
এই বহুমুখী সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকরী নীতিমালা গ্রহণ করা না হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও অসমীয়া চায়ের আধিপত্য খর্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।