Home আকাশ পথ পিআইএ‘র বহরে যুক্ত হচ্ছে ৩০টি নতুন উড়োজাহাজ

পিআইএ‘র বহরে যুক্ত হচ্ছে ৩০টি নতুন উড়োজাহাজ

পুনর্গঠনে আরিফ হাবিবের মহাপরিকল্পনা

এভিয়েশন ডেস্ক:
 ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সকে (পিআইএ) বিশ্বমানের এয়ারলাইন্সে রূপান্তর করতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন এর নতুন মালিক আরিফ হাবিব। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পিআইএ-র মালিকানা গ্রহণের পর চলতি সপ্তাহে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগামী ৩০ মাসের মধ্যে বিমান সংস্থাটির বহরে ৩০টির বেশি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
আরিফ হাবিবের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম বর্তমানে পিআইএ-র ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং চলতি মাসেই বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এই বিশাল বাণিজ্যিক পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জেট ফুয়েলের আকাশচুম্বী দাম।
বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনা
আরিফ হাবিব জানিয়েছেন, বর্তমানে পিআইএ-র মোট ৩০টি উড়োজাহাজের মধ্যে মাত্র ১৮টি সচল অবস্থায় আছে। বাকিগুলো যন্ত্রাংশের অভাব বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্রাউন্ডেড হয়ে আছে। তার পরিকল্পনার মূল অংশগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. উড়োজাহাজ সংখ্যা বৃদ্ধি: আগামী আড়াই বছরের মধ্যে বহরে সচল উড়োজাহাজের সংখ্যা ৬০-এ উন্নীত করা। ২. আন্তর্জাতিক রুট পুনরুদ্ধার: ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের আকাশে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন আইনি ও প্রযুক্তিগত কারণে বন্ধ ছিল। ৩. বিশাল বিনিয়োগ: প্রাথমিক ধাপে সংস্থাটির আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির উন্নয়নে ১২৫ বিলিয়ন রুপির বেশি বিনিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পিআইএ-র পুনর্জন্মের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিমান জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের (JP-1) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। পাকিস্তানে গত এক মাসে জ্বালানির দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ৪৭২ রুপিতে ঠেকেছে। আরিফ হাবিব হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে না আনলে বিমানের কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি সরকারি ভর্তুকি বা বিকল্প উপায়ে জ্বালানি খরচ কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
কর্মচারী ও কর্মসংস্থান
বেসরকারিকরণের সময় করা চুক্তি অনুযায়ী, পিআইএ-র বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নতুন মালিকপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী এক বছর কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে না। তবে পর্যায়ক্রমে দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং অপারেশনাল ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আরিফ হাবিবের ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা এবং অতীতের সফল ট্র্যাক রেকর্ড বিবেচনা করে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি জ্বালানি সংকটের সমাধান হয়, তবে পিআইএ আবারও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী এয়ারলাইন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। মূলত বেসরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে আসার পর থেকেই সংস্থাটির শেয়ার দরেও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আরও নিয়মিত খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন