বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডের শেয়ার দরে আজ ৩.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেলেও, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আর্থিক কাঠামো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থতা, বিশাল অংকের পুঞ্জীভূত লোকসান এবং ঋণের বোঝা কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বড় অংকের বার্ষিক লোকসান ও নেতিবাচক রিজার্ভ
কোম্পানিটির ২০২৫ সালের অডিট করা বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। ওই বছর কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১২.৩২ টাকা লোকসান গুনেছে। এই বিপুল লোকসানের প্রভাবে কোম্পানিটির রিজার্ভ ও সারপ্লাস এখন ঋণাত্মক ২৬০.২ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, কোম্পানির নিজস্ব কোনো সঞ্চয় নেই, বরং তা বিশাল ঘাটতিতে রয়েছে।
সম্পদ মূল্যের পতন ও লভ্যাংশ অনিশ্চয়তা
২০২২ সালে যেখানে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAV) ২১.৮১ টাকা ছিল, ২০২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ১.৩৮ টাকায় নেমে এসেছে। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুরক্ষা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে না পারা কোম্পানিটির আর্থিক দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট
কোম্পানিটির শেয়ার ধারণের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় ও অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে এই কোম্পানি থেকে সরে যাচ্ছেন। ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ যেখানে ২২.৯৮ শতাংশ ছিল, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা কমে ১৫.৯৮ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এই প্রস্থান কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বার্তা প্রদান করে।
ঋণের বোঝা ও পি/ই রেশিও
কোম্পানিটির ওপর বর্তমানে ১৩৮ মিলিয়ন টাকার বেশি ঋণের বোঝা রয়েছে (স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী মিলিয়ে)। বর্তমান বাজার দর ১০১.০০ টাকা হলেও ট্রেইলিং পি/ই রেশিও (P/E Ratio) ঋণাত্মক ১২.৯৯, যা নির্দেশ করে যে কোম্পানির বর্তমান আয়ের তুলনায় শেয়ার দর অত্যন্ত অতিমূল্যায়িত অবস্থায় আছে।
সার্বিকভাবে, আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের বর্তমান শেয়ার দরের এই বৃদ্ধি মৌলিক কোনো উন্নতির কারণে নয়, বরং বাজারের সাময়িক পরিস্থিতির ফল হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।