Home কলকাতা চা নিলামের বিধান বাতিল চান উত্তর ভারতের বাগান মালিকরা

চা নিলামের বিধান বাতিল চান উত্তর ভারতের বাগান মালিকরা

কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের চারটি প্রধান চা উৎপাদক সংগঠন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চা বিক্রির ক্ষেত্রে পাবলিক নিলামের বাধ্যতামূলক বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এই নিয়মটি বাজার বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং চা শিল্পের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে জমা দেওয়া একটি যৌথ স্মারকলিপিতে আসাম বট লিফ টি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ABLTMA), নর্থ ইস্টার্ন টি অ্যাসোসিয়েশন (NETA), ভারতীয় চা পরিষদ (BCP) এবং উত্তরবঙ্গ চা উৎপাদক কল্যাণ সমিতি (NBTPWA) তাদের আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনগুলো মূলত ২০১৫ এবং ২০২৪ সালের চা (বিপণন) নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী আদেশের বিভিন্ন বিধানের বিরোধিতা করছে।
উৎপাদন চিত্র ও আপত্তির কারণ
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের মোট চা উৎপাদনের প্রায় ৮৩ শতাংশ উত্তর ভারত থেকে আসে। বছরে উৎপাদিত ১,৩৫০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চায়ের মধ্যে উত্তর ভারত একাই প্রায় ১,১২০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম উৎপাদন করে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো উত্তর ভারতের মোট উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
বিবাদের মূল কারণ হলো বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালের একটি প্রজ্ঞাপন, যেখানে নিবন্ধিত চা উৎপাদনকারীদের তাদের বার্ষিক উৎপাদনের অন্তত ৫০ শতাংশ পাবলিক নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ‘ডাস্ট গ্রেড’ চায়ের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশই নিলামের মাধ্যমে বিক্রির বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর না হলেও, সাম্প্রতিক একটি সার্কুলারের মাধ্যমে চা বোর্ড এটি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছে।
আর্থিক ও বাণিজ্যিক সংকট
চা উৎপাদকদের মতে, কারখানা থেকে সরাসরি বিক্রির তুলনায় নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল। নিলামে চা বিক্রি করতে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা খরচ হয়, যা গড় বিক্রয়মূল্যের প্রায় ৫ শতাংশ। এই বাড়তি খরচ অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদকদের নিট মুনাফার চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়ায়।
সংগঠনগুলো আরও দাবি করেছে যে, চা বোর্ডের কোনো বিশেষজ্ঞ কমিটি বাধ্যতামূলক নিলামের সুপারিশ করেনি। এমনকি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা অন্যান্য পণ্য খাতের ওপরও এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। তারা এই নিয়মকে সরকারের ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসা সহজীকরণ নীতির পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
স্মারকলিপিতে চা উৎপাদকদের নিজস্ব সুবিধামতো বিক্রয় পদ্ধতি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্র এই নিয়ম প্রত্যাহার বা সংশোধন করবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
পরবর্তী আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন