Home আকাশ পথ মদিনায় ৫,০০০ স্বেচ্ছাসেবক, হজযাত্রীদের বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা

মদিনায় ৫,০০০ স্বেচ্ছাসেবক, হজযাত্রীদের বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা

৫,০০০ স্বেচ্ছাসেবক এবং আধুনিক প্রযুক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পুণ্যভূমি মক্কায় যাওয়ার আগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদিনায় হজযাত্রীদের আগমন শুরু হয়েছে। গতকাল ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কাফেলা আজ ১৯ এপ্রিল ভোরে আরও বড় আকার ধারণ করেছে। মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও উৎসবমুখর ব্যবস্থা।
গোলাপের পাঁপড়ি ও আরব্য সংগীতে বরণ
আজ সকালে যখন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা হজযাত্রীদের প্রথম বড় কাফেলাগুলো বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হজযাত্রীদের সারিবদ্ধভাবে স্বাগত জানান।
ঐতিহ্যবাহী অভ্যর্থনা: প্রত্যেক হজযাত্রীকে আরবের ঐতিহ্যবাহী কফি (গাহওয়া), উন্নতমানের আজওয়া খেজুর এবং সুগন্ধি গোলাপ দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক ছোঁয়া: বিমানবন্দরের আগমনী লাউঞ্জে হালকা ভলিউমে বাজছিল আরব্য ধর্মীয় সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী সুর, যা দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি দূর করে হজযাত্রীদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
উপহার সামগ্রী: হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র কোরআনের কপি, জায়নামাজ এবং রোদ থেকে বাঁচার জন্য বিশেষ ছাতা সম্বলিত একটি করে ‘ওয়েলকাম কিট’ উপহার দেওয়া হয়।
বাংলাদেশসহ ৩ দেশের বিশেষ অংশগ্রহণ
২০২৬ সালের হজ মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বাংলাদেশের ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর সফলতার প্রশংসা করেছেন মদিনার গভর্নর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। আজ সকালে বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শনে এসে তারা জানান, হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৫,০০০ স্বেচ্ছাসেবক এবং আধুনিক প্রযুক্তি মোতায়েন করা হয়েছে।
দ্রুত ইমিগ্রেশন ও আবাসন যাত্রা
মদিনা বিমানবন্দরের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গড়ে মাত্র ১০-১৫ মিনিট সময় লাগছে। ‘স্মার্ট গেট’ ব্যবহারের ফলে কোনো লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। ইমিগ্রেশন শেষে হজযাত্রীদের ল্যাগেজ সরাসরি তাদের জন্য নির্ধারিত বাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে তাদের হোটেলের রুমে পৌঁছে যাবে।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর হজযাত্রীদের সুসজ্জিত বাসে করে মসজিদে নববীর সংলগ্ন কেন্দ্রীয় এলাকা বা মারকানিয়াহ অঞ্চলের হোটেলগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন ছিল।

আরও খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন