বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটজুড়ে এখন সাজ সাজ রব। বর্ণিল আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্ন পথঘাট আর উৎসবমুখর পরিবেশে অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। আজ শনিবার আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম সিলেট সফর, আর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুণ্যভূমি সিলেটে বইছে আনন্দের জোয়ার।
নতুন রূপে বর্ণিল নগরী
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই সিলেটে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোকে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। রাস্তার মেরামত, ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ এবং রং তুলির ছোঁয়ায় নগরী এখন ঝকঝকে। অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলায় দীর্ঘ দিন পর নগরবাসী এক সুশৃঙ্খল ও নান্দনিক সিলেট দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ও মেগা প্রকল্প
শনিবার সকাল ১০টায় আকাশপথে সিলেট পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দিনের কর্মসূচি শুরু হবে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপরই শুরু হবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিকতা।
১. বেলা ১১টায় সুরমা নদীর পাড়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
২. বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টারের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
৪. বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের মেধা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সবশেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভা শেষে তিনি ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
বঞ্চনার অবসান ও আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা
সিলেটবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলটি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সেই বঞ্চনা ঘোচানোর মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিলেটবাসী উন্নয়নের এক নতুন দিগন্তের সূচনা দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবকাঠামো ও ক্রীড়া খাতের অগ্রগতির চিত্র এই সফরে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
নিরাপত্তার চাদরে সিলেট
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে নির্বিঘ্ন করতে সিলেটে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, এসএসএফ-এর নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট।
সব মিলিয়ে আজ এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে সিলেট। জনগণের প্রত্যাশা, এই সফরের মধ্য দিয়ে সিলেটের অর্থনীতি ও অবকাঠামোয় প্রাণের সঞ্চার হবে।