বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আখাউড়া উপজেলায় ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অলৌকিকতার জন্ম দেওয়া সেই আলোচিত গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসন। গাছটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় কুসংস্কার, গুজব এবং মাজারসদৃশ পরিবেশ তৈরির অভিযোগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।
বচিয়ারা গ্রামের প্রবাসী মো. রুহুল আমিন মুন্সির মালিকানাধীন এই গাছটি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে পুকুরপাড়ের এই গাছটি শিকড়সহ উপড়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে গাছের ডালপালা ও ওপরের অংশ কেটে ফেলা হলেও কিছুদিন পর অন্য একটি ঝড়ের সময় ডালপালাহীন অবশিষ্ট কাণ্ডটি অলৌকিকভাবে পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে এটি ‘জিনের কাজ’ বা ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে দ্রুত প্রচার পায়। প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় জমাতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সেখানে লাল কাপড় বেঁধে, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে মাজারের মতো পরিবেশ তৈরি করা হয়। এমনকি গাছের শিকড় ও বাকল অলৌকিক ওষুধ হিসেবে কেটে নেওয়ার প্রবণতাও তৈরি হয়।
তবে এই ঘটনার পেছনে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. নান্নু মিয়া ব্যাখ্যা করেন, গাছটির ওপরের অংশ আগেই কেটে ফেলায় এর মাথার ওজন অনেক কমে গিয়েছিল। ফলে গোড়ার দিকটি ভারী থাকায় এবং মাটির নিচে থাকা অবশিষ্ট শিকড়ের টানে কাণ্ডটি স্বাভাবিক নিয়মেই পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এতে অলৌকিকতার কোনো ভিত্তি নেই।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, কুসংস্কারের বিস্তার রোধে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাছের মালিকের পূর্বানুমতি নিয়েই এটি কেটে ফেলা হয়েছে। গাছ বিক্রির লব্ধ অর্থ স্থানীয় মসজিদ বা মাদ্রাসায় অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে।
businesstoday24.com ফলো করুন এবং এই বিষয়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচে শেয়ার করুন।