Home আন্তর্জাতিক ইসরায়েলি সংসদে লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধের বিল

ইসরায়েলি সংসদে লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধের বিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘কনেসেট’-এ লাউডস্পিকারের মাধ্যমে মসজিদে আজান প্রচার নিষিদ্ধ করার একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিল প্রাথমিক রিডিংয়ে পাস হয়েছে। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে বিলটির পক্ষে ৫০টি এবং বিপক্ষে ৩৬টি ভোট পড়ে। এই পদক্ষেপের পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিনি জাতীয় কাউন্সিল এই বিলটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত ও “আইনগত সন্ত্রাস” বলে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিলের মূল বিষয়বস্তু ও জরিমানা
আপাতদৃষ্টিতে “শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ” আইন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও এই বিলের মূল লক্ষ্য মূলত ফজরের আজান বন্ধ করা। বিলে রাত ১১টা থেকে ভোর ৭টা পর্যন্ত আবাসিক এলাকাগুলোতে লাউডস্পিকার বা উচ্চশব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাউডস্পিকার ব্যবহার করলে সাড়ে তিন হাজার ডলার (প্রায় ৩,০০০ ইউরো) পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে এতে। ইসরায়েলি ডানপন্থী দলগুলোর দাবি, এটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নয়, বরং নাগরিকদের নির্বিঘ্ন জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য আনা হয়েছে।
পার্লামেন্টে তীব্র উত্তেজনা ও ভোটযুদ্ধ
বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির সময় কনেসেটের ভেতরে তীব্র বাদানুবাদ ও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। আরব ও বামপন্থী আইনপ্রণেতারা এই বিলের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন। ভোট চলাকালীন কনেসেটের আরব সদস্য আয়মান ওদেহ বিলটির একটি কপি ছিঁড়ে ফেলেন। অন্য একজন আরব সদস্য কনেসেটের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে আজান দিতে শুরু করলে তাকে জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কট্টর ডানপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলোর সমর্থনে ৫০-৩৬ ভোটে বিলটি প্রাথমিক অনুমোদন পায়।
ফিলিস্তিন ও মুসলিম বিশ্বের কড়া প্রতিক্রিয়া
বিলটি পাসের পর ফিলিস্তিনি জাতীয় কাউন্সিল, হামাস ও আরব লীগের পক্ষ থেকে কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দের মতে, এটি জেরুজালেম ও এর আশেপাশের ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আল-আকসা মসজিদের খতিব এবং স্থানীয় মুসলিম নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইন পাস করে আজান বন্ধ করা যাবে না। তারা প্রয়োজনে লাউডস্পিকার ছাড়াই আল্লাহর বাণী জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
পরবর্তী আইনি ধাপ
প্রাথমিক রিডিংয়ে পাস হলেও বিলটি এখনই চূড়ান্ত আইনে পরিণত হচ্ছে না। কনেসেটের নিয়ম অনুযায়ী, এটি এখন সংসদীয় কমিটির কাছে বিশদ পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিমার্জনের পর বিলটিকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আরও দুটি রিডিং (দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ) পার হতে হবে।