বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় জাহাজভাঙা শিল্পে আবারও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভাটিয়ারী এলাকার ‘ফেরদৌস শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে’ বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ ও দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার কাজ চলার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতোই শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজে যোগ দেন। স্ক্র্যাপ জাহাজের একটি নির্দিষ্ট চেম্বারে কাটিং কাজ চলাকালে আকস্মিকভাবে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা নিশ্বাস নিতে না পেরে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় অন্যান্য শ্রমিক ও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত শ্রমিকদের উদ্ধার করে অবিলম্বে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যান্য শ্রমিকদের জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চমেক হাসপাতাল ও মর্গ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। একের পর এক মরদেহ মর্গে আনা হলে পুরো এলাকা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যে রূপ নেয়।
নিহতদের তালিকায় একই পরিবারের দুই সহোদর ভাই রয়েছেন। পাশাপাশি শোয়ানো দুই ভাইয়ের নিথর দেহ দেখে স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষগুলোকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ স্বজনদের আহাজারি থামানো যাচ্ছিল না।
সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্প দীর্ঘকাল ধরে দেশের অর্থনীতিতে কাঁচামালের বড় জোগানদাতা হলেও এখানে কর্মরত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বরাবরই চরম অবহেলিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জাহাজের চেম্বারটিতে কাজ শুরুর আগে সঠিক পদ্ধতিতে ‘গ্যাস ফ্রি সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: আধুনিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও হংকং কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার আগে টক্সিক ও দাহ্য গ্যাস পরীক্ষার জন্য স্বয়ংক্রিয় গ্যাস ডিটেক্টর ও উপযুক্ত এয়ার-ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। জরুরি শ্বাসযন্ত্র (SCBA), সার্বক্ষণিক গ্যাস মনিটরিং এবং প্রশিক্ষিত রেসকিউ টিম ছাড়া বদ্ধ প্রকোষ্ঠে শ্রমিকদের পাঠানো সরাসরি শিল্প নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন।










