বিশ্বের প্রধান খাদ্যশস্য চালের আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন পর বড় ধরনের দরপতন ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ ভারতে নতুন মৌসুমের বাম্পার ফলন এবং পর্যাপ্ত সরকারি মজুত নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটির রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পদক্ষেপ বৈশ্বিক চালের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। নতুন চালের বিপুল সরবরাহ আন্তর্জাতিক বাজারে আসায় খাদ্যশস্যটির সার্বিক মূল্যসূচক দ্রুত নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।
ভারতীয় চালের রেকর্ড দরপতন ও আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র: বিশ্বের মোট চাল রপ্তানির বড় অংশের জোগানদাতা ভারতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চালের দাম বহুবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ৫ শতাংশ ভাঙা সিদ্ধ চালের দর লেনদেন হচ্ছে প্রতি মেট্রিক টন ৪০০ থেকে ৪১০ মার্কিন ডলারে। অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত থাকার পর দেশটির আগ্রাসী রপ্তানি নীতি বৈশ্বিক বাজারে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশকে সরাসরি চাপে ফেলেছে।
থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা: ভারতের বাজারে দাম কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের ওপর। ভারতীয় চালের সাথে বাজারে টিকে থাকতে থাই রপ্তানিকারকরা তাদের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম ব্যাপকভাবে কমাতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে থাই চাল টনপ্রতি ৪২০ থেকে ৪৩০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা মাত্র কয়েক মাস আগের তুলনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম। একইভাবে ভিয়েতনামি ৫ শতাংশ ভাঙা চালের রপ্তানি দর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মুখে কমে প্রতি মেট্রিক টন ৪১৫ থেকে ৪২৫ ডলারে নেমে এসেছে।
আমদানিকারক দেশগুলোর স্বস্তি ও বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক বাজারে চালের এই ধারাবাহিক দরপতন এশিয়া ও আফ্রিকার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে। ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে চড়া খাদ্যমূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকটের চাপে ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমায় এসব দেশ এখন কম ব্যয়ে প্রয়োজনীয় চাল আমদানি করতে পারছে, যা দেশীয় বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে।
আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া ও বিশ্বজুড়ে চালের মোট উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক সংকট না ঘটলে সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক চালের সরবরাহ ও মূল্যের এই নিম্নমুখী স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলেই পূর্বাভাস মিলছে।