Home আন্তর্জাতিক গোপন প্রযুক্তির জাদুকরী ছোঁয়া: ‘ঘোস্ট মারমার’ ও এক রহস্যময় উদ্ধার অভিযান

গোপন প্রযুক্তির জাদুকরী ছোঁয়া: ‘ঘোস্ট মারমার’ ও এক রহস্যময় উদ্ধার অভিযান

  • সিআইএ প্রথমবারের মতো ব্যবহার করল লোকহীড মার্টিনের গোপন ‘ঘোস্ট মারমার’ প্রযুক্তি।
  • স্কাঙ্ক ওয়ার্কসের তৈরি এই সিস্টেমটি শব্দ ও কম্পন শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে।
  • রাডার ফাঁকি দেওয়া স্টিলথ বিমানও এখন এই প্রযুক্তির কাছে ধরাশায়ী।
  • নিখোঁজ বৈমানিককে খুঁজে বের করার মাধ্যমে এই প্রযুক্তির সফল অভিষেক ঘটল।
 আন্তর্জাতিক ডেস্ক নিউ ইয়র্ক পোস্টের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক নিখোঁজ বৈমানিককে উদ্ধারে সিআইএ (CIA) এমন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে যা এতদিন কেবল বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
‘ঘোস্ট মারমার’ (Ghost Murmur) নামক এই অত্যন্ত গোপনীয় প্রযুক্তির ব্যবহার সামরিক গোয়েন্দা বৃত্তিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল।
অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করার কারিগর: স্কাঙ্ক ওয়ার্কস লোকহীড মার্টিনের কিংবদন্তি গবেষণা শাখা ‘স্কাঙ্ক ওয়ার্কস’ (Skunk Works) এই প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে। যারা একসময় U-2 এবং SR-71 ব্ল্যাকবার্ডের মতো বিমান তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, তারাই এবার এনেছে ‘ঘোস্ট মারমার’।
এটি মূলত একটি প্যাসিভ সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম, যা কোনো রেডিও তরঙ্গ না পাঠিয়েই বায়ুমণ্ডলের অতি সূক্ষ্ম বিচ্যুতি এবং যান্ত্রিক গুঞ্জন (Murmur) শনাক্ত করতে পারে।
যেভাবে কাজ করে ‘ঘোস্ট মারমার’ সাধারণ রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুর ওপর তরঙ্গ পাঠায় এবং তা প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসলে অবস্থান শনাক্ত করে। কিন্তু ‘ঘোস্ট মারমার’ কাজ করে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। প্রতিটি বিমানের ইঞ্জিন বা কাঠামো বাতাসে নির্দিষ্ট মাত্রার কম্পন এবং তাপীয় তরঙ্গ তৈরি করে।
এই প্রযুক্তি কোয়ান্টাম সেন্সিং ব্যবহার করে সেই অতি ক্ষুদ্র স্পন্দন বা ‘মারমার’ শনাক্ত করে, যা আধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির আড়ালেও ঢাকা পড়ে না।
প্রথম ব্যবহার ও বৈমানিক উদ্ধার প্রতিবেদন অনুসারে, এটিই ছিল এই প্রযুক্তির প্রথম বাস্তবমুখী প্রয়োগ। নিখোঁজ সেই বৈমানিক এমন এক স্থানে ছিলেন যেখানে প্রচলিত কোনো ট্র্যাকিং সিস্টেম কাজ করছিল না।
সিআইএ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ঘোস্ট মারমার ব্যবহার করে তার বিমানের ইঞ্জিনের অবশিষ্টাংশ বা সচল অবস্থার ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করে। এই সফল অপারেশনটি প্রমাণ করেছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর কোনো কিছুই পুরোপুরি ‘অদৃশ্য’ নয়।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ ঘোস্ট মারমারের এই অভিষেক রাশিয়ার ‘সুখোই’ বা চীনের ‘জে-২০’ এর মতো স্টিলথ বিমানগুলোর কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এখন এমন এক অস্ত্র আছে যা কেবল নিঃশব্দে নজরদারিই করে না, বরং কোনো চিহ্ন না রেখেই লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তির প্রকাশ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মানচিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে।
ফলো করুন: www.businesstoday24.com