Home অপরাজিতা আকাশ থেকে আমাজনের ঘন জঙ্গলে পতন: অবিশ্বাস্য বেঁচে থাকার গল্প

আকাশ থেকে আমাজনের ঘন জঙ্গলে পতন: অবিশ্বাস্য বেঁচে থাকার গল্প

জুলিয়ান
বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক:
১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর, ক্রিসমাসের আগের দিন। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ৩ হাজার মিটার (প্রায় ১০ হাজার ফুট) উচ্চতা থেকে সিটসহ সরাসরি আছড়ে পড়লেন আমাজনের রেইনফরেস্টে। অবিশ্বাস্যভাবে তিনি বেঁচে গেলেন এবং টানা ১১ দিন একাকী আমাজনের ভয়ঙ্কর পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এলেন লোকালয়ে। ইতিহাসে অলৌকিক ও রোমাঞ্চকর এই বেঁচে থাকার কাহিনীর নায়িকার নাম জুলিয়ান কোপকে (Juliane Koepcke)।
লানসা এয়ারলাইন্সের ‘ফ্লাইট ৫০৮’ নামক বিমানটি ৯২ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে পেরুর লিমা থেকে পুকালপার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মাঝআকাশে বিমানটি এক প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাতের কবলে পড়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। কিশোরী জুলিয়ান তখনো সিটের সঙ্গে বেল্ট দিয়ে বাঁধা ছিলেন। ওই অবস্থাতেই তিনি আকাশ থেকে নিচের দিকে পড়তে থাকেন। ঘন গাছের পাতা এবং ডালপালা কুশনের মতো কাজ করায় সরাসরি মাটিতে আছড়ে পড়ার তীব্র আঘাত থেকে তিনি রক্ষা পান।
যখন জুলিয়ানের জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন গভীর আমাজনের এক নির্জন ও দুর্গম এলাকায়। তার কলারবোন ভেঙে গিয়েছিল, পায়ে ও কাঁধে ছিল গভীর ক্ষত। ৯২ জন যাত্রীর মধ্যে একমাত্র তিনিই অলৌকিকভাবে জীবিত ছিলেন। তার মা-ও ওই বিমানে ছিলেন, যিনি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
জুলিয়ানের বাবা-মা দুজনেই ছিলেন জুওলজিস্ট বা প্রাণীবিজ্ঞানী। পেরুর জঙ্গলেই গবেষণার কারণে জুলিয়ানের শৈশব কেটেছিল। ফলে আমাজনের কোন ফল খাওয়া উচিত, কোন প্রাণী বিপজ্জনক আর কীভাবে পথ চিনতে হয়—সে বিষয়ে তার কিছুটা ধারণা ছিল। ভাঙা শরীর আর কেবল এক প্যাকেট লজেন্স সম্বল করে তিনি পথ চলতে শুরু করেন। পোকামাকড় ও মাছির আক্রমণে তার কাঁধের ক্ষতস্থানে পোকা বা ম্যাগট জন্মেছিল। উদ্ধারকারী বিমানগুলো ঘন জঙ্গলের কারণে তাকে ওপর থেকে দেখতে পাচ্ছিল না।
জুলিয়ান জানতেন, পানির উৎস ধরে এগোলে একদিন নদীর দেখা মিলবে এবং নদীর পাড় ধরেই মানুষের বসতি পাওয়া সম্ভব। এই সূত্র মেনে টানা ১০ দিন নদীর স্রোত ধরে হাঁটার পর তিনি একটি কাঠের তৈরি অস্থায়ী নৌকা রাখার ঘর এবং একটি নৌকা খুঁজে পান। সেখানে থাকা জ্বালানি তেল (গ্যাসোলিন) নিজের ক্ষতস্থানে ঢেলে তিনি পোকা পরিষ্কার করেন। একাদশ দিনে পেরুর কয়েকজন স্থানীয় কাঠুরে তাকে ওই ঘরে খুঁজে পান। তারা জুলিয়ানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নৌকায় করে লোকালয়ে নিয়ে আসেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করেন।
জুলিয়ান কোপকে বর্তমানে একজন সফল জার্মান স্তন্যপায়ী প্রাণী বিশেষজ্ঞ (Mammalogist)। আমাজনের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি নিয়ে ‘হোয়েন আই ফেল ফ্রম দ্য স্কাই’ নামে তার একটি বিখ্যাত আত্মজীবনী রয়েছে। প্রকৃতির বুক থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে আসা এই নারী এখনো জীবিত আছেন।
Visit www.businesstoday24.com