Home ক্যারিয়ার নিঃস্ব যুবকের হাতে সাড়ে এগারো শ টাকার চাকরির পরোয়ানা

নিঃস্ব যুবকের হাতে সাড়ে এগারো শ টাকার চাকরির পরোয়ানা

কামরুল ইসলাম
মানুষের জীবনের গতিপথ কি সবসময় সচেতন পরিকল্পনার মসৃণ রাজপথ ধরে এগোয়, নাকি অদৃশ্য কোনো নিয়তি অলক্ষ্যে বসে নিজের খেয়ালখুশিমতো পাশা খেলে? জীবনের অপরাহ্ণে দাঁড়িয়ে চার দশক পেছনে ফিরে তাকালে স্পষ্ট বুঝতে পারি—আমার সাংবাদিকতা জীবনের মূল ভিত্তিপ্রস্তরটি কোনো সুবিন্যস্ত ছকে রচিত হয়নি; বরং তা গড়ে উঠেছিল তীব্র রক্তক্ষরণ, চরম অসহায়ত্ব আর ভাগ্যের এক অভাবনীয় ও পরাবাস্তব জুয়াখেলায়।
সাংবাদিক হওয়ার সেই আজন্ম ক্ষুধা নিয়ে আমার প্রথম হাতেখড়ি হয়েছিল মূলত আরও আগে—ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক আজাদ’-এর নিউজপ্রিন্টের পাতায়। তরুণ মনে তখন ছিল অফুরন্ত স্বপ্ন আর উদ্দীপনা। কিন্তু কে জানত, রাজনীতির এক অপ্রত্যাশিত চোরাস্রোত জীবনের প্রথম বসন্তের অঙ্কুরেই কুঠারাঘাত করবে!
১৯৭৫ সালের ১৬ জুন জারি হলো ইতিহাসের সেই কুখ্যাত ‘সংবাদপত্র (ডিক্লারেশন বাতিল) অধ্যাদেশ’। সরকারি নিয়ন্ত্রণে মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে দেশের বাকি সব স্বাধীন সংবাদপত্র এক নিমেষে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সেই কালো অধ্যাদেশে চিরতরে তালা ঝুলল শতবর্ষী ঐতিহ্যের স্মারক দৈনিক আজাদ ভবনে, ২৭/ক ঢাকেশ্বরী রোডে। আর সেই সাথে একটি তরুণ হৃদয়ের স্বপ্ন, পেশাগত জীবনের প্রথম কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্রটিও আজাদের সাথেই সাময়িকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল একরাশ ঘন অনিশ্চয়তায়।
কিন্তু সত্যের তৃষ্ণা আর কলমের শক্তিকে কি কোনো কালো আইনের শিকল দিয়ে চিরকাল অবরুদ্ধ রাখা যায়?
পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর সংবাদপত্র জগতের ওপর চেপে বসা সেই শ্বাসরুদ্ধকর নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করল। সেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় সর্বপ্রথম পুনঃপ্রকাশের অনুমতি পেল ঐতিহ্যবাহী জাতীয় দৈনিক ‘সংবাদ’—১৯৭৫ সালের ৯ অক্টোবর। আজাদ বন্ধ হওয়ার বুকভাঙা ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে আমার নতুন ঠিকানা হলো পুরান ঢাকার ২৬৩ বংশাল রোডের ‘সংবাদ’। সেখানে কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংবাদ ও ফিচার পাঠিয়েছিলাম। ছাপাও হয়েছিল সযত্নে।
১৯৭৬ সালের এক কনকনে শীতের শান্ত সকালে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে সাহস সঞ্চয় করে সরাসরি দেখা করলাম প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্য সমালোচক, সংবাদ-এর তৎকালীন বার্তা সম্পাদক শ্রদ্ধেয় সন্তোষ গুপ্তের সঙ্গে। টেবিলে ছড়িয়ে থাকা অজস্র প্রুফ শিট আর টেলিপ্রিন্টারের খড়খড় শব্দের মাঝে তিনি একজোড়া প্রজ্ঞাময় শান্ত দৃষ্টিতে আমার লেখার নমুনাগুলো দেখলেন। তরুণ এক যুবকের চোখের ভেতরের সাংবাদিকতার তীব্র ক্ষুধা তিনি মুহূর্তেই পড়তে পেরেছিলেন। অত্যন্ত আগ্রহভরে তিনি আমার হাতে তুলে দিলেন ‘সংবাদ’-এর বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার-এর নিয়োগপত্র এবং পরিচয়পত্র। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নানা খবর, ফিচার আর সমকালীন  ছাত্র জনীতি নিয়ে শুরু হলো আমার কলমযুদ্ধ।
কিন্তু আশির দশকের সূচনাপর্বে এসে জীবনের চাকা যেন সম্পূর্ণ উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করল। ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক জগতে নেমে এল অমাবস্যার মতো নিকষ আঁধার।
প্রথম আঘাতটি এসেছিল একদম নিভৃতে, অন্তরের গভীরে। জীবনের প্রথম ভালোবাসার মানুষটি কোনো এক অচেনা অভিমানে চিরতরে হাত ছেড়ে নিঃশব্দে হারিয়ে গেলেন অন্য এক ভুবনে। যে ভালোবাসাকে ঘিরে ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন বোনা ছিল, সেই আশ্রয়টুকু হঠাৎ ধসে পড়ায় বুকের ভেতর তখন তীব্র হাহাকার আর বিচ্ছেদের এক কাঁচা ক্ষত।
সেই ব্যক্তিগত ধাক্কার ক্ষত সামলে ওঠার আগেই যেন তৈরি হলো আরও বড় বিপর্যয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর মানেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের সভা-সমাবেশ, মিছিল। আর  এদের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দলের রক্তক্ষয়ী বারুদখানা। ক্যাম্পাসের এই নোংরা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আমি ছিলাম পুরোপুরি এক নিরীহ, নিরপেক্ষ সংবাদকর্মী। কোনো পক্ষের চাটুকারিতা বা লেজুড়বৃত্তি করিনি। কিন্তু সেই সত্যনিষ্ঠাই কাল হলো। ভালোবাসার মানুষটির হাত হারানোর তীব্র মানসিক বেদনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজপথে অতর্কিতে আমার ওপর নেমে এল সশস্ত্র প্রাণঘাতী হামলা গোষ্ঠিদ্বন্দ্বে জর্জরিত একটি ছাত্র সংগঠনের  উপদল সমর্থিতদের কয়েকজনের। সহকর্মীদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় কোনোমতে সে যাত্রায় দু’সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাশেষে  জীবন নিয়ে ফিরলেও ক্যাম্পাসের বাতাসে তখন আমার জন্য শুধু আতঙ্কের গন্ধ।
ভেঙে যাওয়া হৃদয় আর রক্তাক্ত শরীর—এই দুই চরম আঘাতের মুখে ক্যাম্পাসে টিকে থাকাটাই যখন জীবনসংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াল, তখন তীব্র মানসিক দহন থেকে বাঁচতে একবুক দীর্ঘশ্বাস সম্বল করে পালিয়ে রাজধানীতে। উদ্দেশ্য একটাই—প্রাণ বাঁচানো আর মাথা গোঁজার জন্য একটা নিরেট আশ্রয়ের সন্ধান।
সেই দুঃসময়ে দৈনিক সংবাদ-এর বার্তা সম্পাদক ছিলেন অভিভাবকতুল্য প্রথিতযশা সাংবাদিক আবদুল আওয়াল খান। ভগ্নহৃদয়ে তাঁর কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। ঠিক সেই উত্তাল সময়ে ‘সংবাদ’-এর বার্তা কক্ষে ঘটল এক বড় ধরনের শূন্যতা। বার্তা বিভাগের একটি পুরো প্রভাবশালী দল একযোগে পদত্যাগ করে যোগ দিল ‘বাংলার বাণী’তে। বার্তা কক্ষ সচল রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষানবিস রিপোর্টার ও সাব-এডিটর নিয়োগের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল কর্তৃপক্ষ। বার্তা সম্পাদক আমাকে দেখেই এক মুহূর্ত ভাবলেন, তারপর পরম স্নেহে বললেন, “তুমি আবেদন করো এবং লিখিত পরীক্ষায় বসো।”
পরীক্ষার তারিখ জেনে সামান্য কিছু প্রস্তুতি ও নথিপত্র নিতে আবার দ্রুত চট্টগ্রামে ফিরে গেলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ছায়া যেন আমার পিছু ছাড়ছিল না।
পরীক্ষা ছিল বেলা বারোটায়। দূরপাল্লার যানবাহনের চরম অনিশ্চয়তায় চট্টগ্রাম থেকে যখন ঢাকার বংশাল রোডের ‘সংবাদ’ ভবনে এসে পৌঁছালাম, ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটা গড়িয়ে বিকেল ছুঁয়েছে। আমার বুকটা যেন এক মুহূর্তে হিম হয়ে গেল। এত বড় একটা সুযোগ চোখের সামনে এভাবে হাতছাড়া হয়ে গেল!
ভগ্নহৃদয়ে বার্তা সম্পাদকের সামনে গিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়ালাম। তিনি  আমার বিধ্বস্ত মুখের দিকে তাকালেন, হয়তো আমার ভেতরের হাহাকারটুকু পড়তে পেরেছিলেন। তিনি কঠোর হলেন না, বরং নিচু গলায় বললেন, “ঠিক আছে, তুমি কাল দুপুরবেলা এসো।”
সেই রাতের আশ্রয় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে, আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর রুমে। বন্ধুর ছিল খেলাধুলার সংবাদের প্রতি প্রচণ্ড নেশা। তখনকার দিনে দৈনিক কাগজগুলোর মধ্যে ‘দৈনিক বাংলা’য় সবচেয়ে রমরমা খেলার খবর ছাপা হতো। তাই বন্ধুর পড়ার টেবিলে সবসময় শোভা পেত সেই পত্রিকা।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিষাদগ্রস্ত মন নিয়ে টেবিলের ওপর রাখা দৈনিক বাংলাটা হাতে টেনে নিলাম। অলসভাবে পাতা ওল্টাতে গিয়ে খেলার পাতায় নয়, প্রথম পাতার ঠিক নিচের দিকে থাকা একটি চারকোনা বক্স আইটেমের ওপর আমার চোখ আটকে গেল। একটি চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংঘাতের খবর। সকালের নিস্তব্ধতায় কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়াই খবরটির প্রথম লাইন থেকে শেষ লাইন পর্যন্ত অত্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লাম। প্রতিটি তথ্য, বাক্যের গঠন আর ভেতরের মূল বক্তব্য অবচেতনভাবেই মনের ভেতর গেঁথে গেল।
দুপুরের আগেই কাঁপাকাঁপা পায়ে গিয়ে হাজির হলাম বংশাল রোডের প্রেসের গন্ধমাখা সংবাদ ভবনে। বার্তা সম্পাদক আওয়াল খান আমাকে নিয়ে সোজা ঢুকলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ হাসান আল-জালালীর শীতাতপনিয়ন্ত্রিত খাসকামরায়। চারপাশ এক গম্ভীর ও ভারী নীরবতায় ঢাকা।
জালালী সাহেব টেবিলের ওপর থেকে ইংরেজি একটি দৈনিক পত্রিকা তুলে নিলেন। তারপর আমার সামনে মেলে ধরলেন ফুলস্কেপ সাইজের দুটি সাদা কাগজ । খুব সংক্ষিপ্ত ভাষায় নির্দেশ দিলেন, “এই নিউজটা বাংলায় অনুবাদ করো।”
তিনি পত্রিকার ভেতরের পাতার যে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংবাদটির ওপর তর্জনী রাখলেন, সেটি দেখামাত্রই আমার বুকের ভেতর যেন সহস্র ভোল্টের এক বিদ্যুৎচমক খেলে গেল! চোখের সামনে সবকিছু এক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে গেল।
এ কোন অবিশ্বাস্য নাটক! এ যে ঠিক সেই খবরটি—সকালে এফএইচ হলের টেবিলে বসে দৈনিক বাংলায় যার প্রতিটি অক্ষর আমি খুঁটিয়ে পড়ে এসেছি!
ইংরেজি সংবাদটির ওপর চোখ বুলানোর চেয়ে সকালের দৈনিক বাংলায় দেখা বয়ানটাই আমার কলমের ডগা দিয়ে ঝড়ের গতিতে সাদা কাগজের বুকে নেমে আসতে লাগল। সাবলীল, গতিশীল ও নিখুঁত বাংলায় তরতাজা অনুবাদটি দাঁড় করিয়ে দিলাম। ফুলস্কেপ কাগজ দুটি টেবিলে এগিয়ে দিতেই বার্তা সম্পাদক এবং জালালী সাহেব দুজনে ঝুঁকে পড়ে পাণ্ডুলিপিটি দেখলেন। তাঁদের চোখের তারায় স্পষ্ট ফুটে উঠল চরম বিস্ময় ও সন্তুষ্টির দীপ্তি। মুখে কিছু না বললেও বার্তা কক্ষের অভিজ্ঞদের সেই নীরব চাহনিই বলে দিচ্ছিল—তাঁরা যা খুঁজছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু পেয়ে গেছেন।
এরপর ঢাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আর চট্টগ্রামের পারিবারিক খবরাখবর নিয়ে সংক্ষিপ্ত ভাইবা শেষ হলো।
অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৯৮১ সালের ১৭ ডিসেম্বর। পৌষের কনকনে শীতের আমেজ তখন সারা ঢাকা শহরে।
আমার কাঁপাকাঁপা আঙুলের ডগায় তুলে দেওয়া হলো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র—পদবি শিক্ষানবিস স্টাফ রিপোর্টার/ সাব এডিটর। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দুই বছরের শিক্ষানবিশকাল। আর মাস শেষে পারিশ্রমিকের যে কাঠামো সেদিন নির্ধারিত হয়েছিল, তা ছিল সে সময়ের বাস্তবতায় এক অবিশ্বাস্য প্রাপ্তি। মূল বেতন ৫৫০ টাকা, তার ওপর ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ৩৩০ টাকা, আর সঙ্গে যাতায়াত ও চিকিৎসা ভাতা যোগ করে সর্বমোট সাড়ে এগারোশো টাকার একখানা স্ফীত সুদৃশ্য খাম!
আজকের মুদ্রাস্ফীতির যুগে বসে এই অঙ্কটা শুনলে হয়তো অনেকে মুচকি হাসবেন, কিন্তু তৎকালীন ঢাকা শহরে একজন ব্যাচেলর যুবকের রাজা-বাদশাহর মতো সচ্ছল জীবনযাপনের জন্য এই সাড়ে এগারোশো টাকাই ছিল অঢেল।
পকেটে কাঁচা টাকার রাজকীয় গরম, আর কাঁধে ‘দৈনিক সংবাদ’-এর স্টাফ রিপোর্টারের দুর্লভ আভিজাত্য—নিদারুণ এক ভালো লাগা আর দুর্বার আত্মবিশ্বাসে দিনগুলো রঙিন হতে শুরু করল। প্রেমহীনতার তীব্র শূন্যতা আর রাজনীতির চক্রান্তে ক্ষতবিক্ষত মনের গ্লানি যেন কর্পূরের মতো উবে গেল। পুরান ঢাকা আর স্টেডিয়াম মার্কেটের রেস্তোরাঁয় দেদার খরচ করতাম, নতুন পেশার প্রতিটি রোমাঞ্চকর মুহূর্ত তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতাম। জীবনের প্রথম কালবৈশাখী যাকে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল, দৈনিক সংবাদের সেই চাকরি তাকে নতুন করে বুক টানটান করে বাঁচতে শেখাল।
আজ চার দশক পর অকপটে স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই—সেদিন জালালী সাহেব যদি দৈবচক্রে সেই আন্তর্জাতিক সংবাদের বদলে অন্য যেকোনো একটি সাধারণ ইংরেজি খবর আমার সামনে মেলে ধরতেন, তবে আমার সেই ভয়ার্ত, নার্ভাস মানসিক অবস্থায় তার দশ শতাংশ মানসম্মত অনুবাদ করাও হয়তো কোনোদিন সম্ভব হতো না। ভাগ্যের দেবী সেদিন এফএইচ হলে বন্ধুর  টেবিলে আমার জন্য খবরের কাগজটি খুলে না রাখলে আজকের এই রিপোর্টার হয়তো জন্ম নেওয়ার আগেই হারিয়ে যেত।
১৯৮১ সালের সীসার অক্ষরের কম্পোজ ও ট্রেডল মেশিনের সেই উত্তাল যুগ থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল বিপ্লব পর্যন্ত—এই চার দশকে ক্ষমতার উত্থান-পতন আর রক্তাক্ত ইতিহাসের বহু বাঁকবদল আমি নিজের চোখে দেখেছি। কিন্তু জীবনের সমস্ত অর্জনের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আজও সেই পৌষের শীতের দুপুরটিকে মনে হয় সবচেয়ে বড় অলৌকিক আশীর্বাদ। সাংবাদিকতার সেই আদিম দীক্ষা আমাকে শিখিয়েছিল—কখনো কখনো নিখাদ মেধার চেয়েও নিয়তির এক অলৌকিক অঙ্ক মানুষকে নিকষ অমানিশা থেকে টেনে তুলে এনে নতুন এক ভোরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।