Home First Lead গভীর সমুদ্রে ‘সোনার ফিশিং’ ও প্লাস্টিক দূষণে বিপন্ন সামুদ্রিক সম্পদ: প্রধান উপদেষ্টার...

গভীর সমুদ্রে ‘সোনার ফিশিং’ ও প্লাস্টিক দূষণে বিপন্ন সামুদ্রিক সম্পদ: প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক জলসীমার মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম এখন চরম ঝুঁকির মুখে। একদিকে ‘সোনার’ (Sonar) প্রযুক্তির মাধ্যমে আগ্রাসী মৎস্য আহরণ, অন্যদিকে গভীর সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ—এই দুই সংকটে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গবেষণা জাহাজ R.V. Dr. Fridtjof Nansen-এর জরিপ প্রতিবেদন গ্রহণকালে এ তথ্য উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই সম্পদ রক্ষায় গভীর সমুদ্রে গবেষণা বৃদ্ধি ও কার্যকর পলিসি সাপোর্টের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
গবেষণার মূল তথ্য ও উদ্বেগজনক ফলাফল
গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানীর (যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি) সমন্বয়ে এই জরিপ পরিচালিত হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী গবেষণার ভয়াবহ কিছু দিক তুলে ধরেন:
বিপজ্জনক ‘সোনার ফিশিং’: বর্তমানে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছে। এর মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে মাছ ধরছে। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী পদ্ধতি, যা সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করছে।
জেলি ফিশের আধিক্য: অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের (Overfishing) ফলে সাগরে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, যার ফলে জেলি ফিশের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে।
তলদেশে প্লাস্টিক দূষণ: সাগরের দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়।
মাছ হ্রাস: ২০১৮ সালের তুলনায় গভীর ও অগভীর—উভয় অঞ্চলেই বড় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
আশার আলো: নতুন প্রজাতি ও টুনা মাছ
সব নেতিবাচক খবরের মাঝেও গবেষণায় কিছু ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে:
সমুদ্রে নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
গভীর সমুদ্রে প্রচুর পরিমাণে টুনা মাছের সম্ভাবনা দেখা গেছে।
সুন্দরবনের নিচে একটি ‘ফিশিং নার্সারি’ বা মাছের প্রজনন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
সরকারের কঠোর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, “টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর অচিরেই মাছশূন্য হয়ে পড়বে। সরকার ‘সোনার ফিশিং’ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।”
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন: “আমাদের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ থাকলেও আমরা সেই সম্পদ কাজে লাগাতে পারিনি। এমনকি আমাদের সম্পদের সঠিক পরিমাণও অজানা। এই সম্পদের ওপর ভিত্তি করেই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে।”
সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আসছে ব্রিটিশ জাহাজ
বৈঠকে জানানো হয়, সামুদ্রিক গবেষণা জোরদার করতে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এটি সমুদ্রের তলদেশের তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণায় বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সহায়তা নিয়ে যৌথ গবেষণার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।