পাইলট সংকট ও অব্যবস্থাপনা
এভিয়েশন ডেস্ক: ভারতের আকাশপথে গত চার দিন ধরে চলা চরম বিশৃঙ্খলা শুক্রবার চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। দেশটির বৃহত্তম বিমান সংস্থা ‘ইন্ডিগো’ শুক্রবার একদিনেই প্রায় ৫০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর মধ্যে নয়াদিল্লি ও চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে সংস্থাটির সমস্ত বহির্গামী ফ্লাইট (Departures) বাতিল করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, যার ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে ভারত সরকারকে।
সংকটের মূল কারণ: নতুন নিরাপত্তা বিধি ও পরিকল্পনার অভাব
যাত্রী সুরক্ষা ও বিমান নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (DGCA) পাইলটদের ডিউটি বা কাজের সময়সীমা নিয়ে নতুন কঠোর নিয়ম চালু করেছিল। এই নিয়মে পাইলটদের উড়োজাহাজ চালানোর সময় কমানো হয়েছে এবং রাতের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে, সপ্তাহে একজন পাইলট রাতে সর্বোচ্চ দুবার অবতরণ (Landing) করতে পারবেন—এমন নিয়ম করা হয়েছিল, যা আগে ছিল ছয়বার।
১ নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, তারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আগাম কোনো সঠিক পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি নেয়নি। ডিসেম্বরে ভারতে পর্যটন ও ভ্রমণের ‘পিক সিজন’ চলায় এই অব্যবস্থাপনা বড় আকার ধারণ করে এবং চলতি সপ্তাহে ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক পড়ে যায়।
যাত্রীদের দুর্ভোগ ও ক্ষোভ
শুক্রবার দিল্লি বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর প্রায় ২৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়। মুম্বাইতে ১৬৫, বেঙ্গালুরুতে ১০২ এবং হায়দ্রাবাদে ৯২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়া যাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বিক্ষোভ: বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে যাত্রীদের “ইন্ডিগো নিপাত যাক” স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মানবিক সংকট: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভোর ৪টা থেকে ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত শিশুরা বিমানবন্দরের মেঝেতে বসে আছে। এক বাবাকে তার মেয়ের জন্য স্যানিটারি প্যাড না পেয়ে ক্রু মেম্বারদের ওপর চিৎকার করতে দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান বাজারের ৬০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণকারী এই সংস্থাটি যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে একে “গুরুতর অপারেশনাল ক্রাইসিস” বা পরিচালনাগত সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে।
সরকারের জরুরি পদক্ষেপ ও ছাড়
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ইন্ডিগোর অনুরোধে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সংস্থাটিকে কিছু নতুন নিয়ম থেকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাইলটদের রাতের ফ্লাইট এবং ডিউটি সময়ের কিছু কড়াকড়ি ইন্ডিগোর জন্য শিথিল করা হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।
শেয়ার বাজারে প্রভাব ও ক্ষতিপূরণ
এই বিপর্যয়ের ফলে শুক্রবার ইন্ডিগোর শেয়ার দর প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে, যা পুরো সপ্তাহে ১০.৩ শতাংশ পতন ঘটিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের রিফান্ড বা বুকিং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো চার্জ নেওয়া হবে না। এছাড়া আটকা পড়া যাত্রীদের জন্য হোটেল ও স্থল পরিবহনের ব্যবস্থা করার কথাও জানানো হয়েছে।
"Need sanitary pad for my daughter," a visibly angry man could be heard venting at the Indigo crew amid hundreds of flight cancellations leaving passengers, in dire need of basic amenities, stranded for hours. pic.twitter.com/TRlMA27DVS
— Piyush Rai (@Benarasiyaa) December 5, 2025










