বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ফল আমদানির ঋণপত্রে (এলসি) শতভাগ নগদ মার্জিনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হিসেবে ফলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকার ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে মার্জিন নির্ধারিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে চড়া থাকা ফলের বাজারে দাম কমবে কি না, তা নিয়ে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানামুখী হিসাব-নিকাশ।
চট্টগ্রামের ফল আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। চট্টগ্রামের ফলমণ্ডির পাইকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আল-মদিনা ফ্রুটস’-এর স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শতভাগ মার্জিন থাকার কারণে ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকরা বাজারে টিকতে পারছিলেন না। মূলধনের সংকটে এলসি খোলার গতি কমে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। মার্জিন শিথিল হওয়ায় এখন স্বাভাবিক আমদানি সচল হবে। ফলমণ্ডির আরেক আমদানিকারক তানভীর আহমেদ জানান, শতভাগ মার্জিন প্রত্যাহারের ফলে আমদানিকারকদের ওপর আর্থিক চাপ কমবে ঠিকই, তবে রাতারাতি খুচরা বাজারে দাম কমে যাবে না। নতুন নির্দেশনার অধীনে এলসি খুলে বিদেশি ফল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়ে স্থানীয় বাজারে পৌঁছাতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। এছাড়া বন্দর চার্জ ও পরিবহন খরচের সমন্বয় শেষে বাজারে ফলের দাম কিছুটা কমতির দিকে যাবে।
এদিকে, সাধারণ ভোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও খুচরা বাজারে এর সুফল পৌঁছানো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে ফল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল হাসান বলেন, পুষ্টির চাহিদায় শিশুদের জন্য নিয়মিত ফল কেনা সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। মার্জিন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ভালো, কিন্তু অতীতে দেখা গেছে আমদানিতে খরচ কমলেও খুচরা বাজারে ব্যবসায়ীরা সহজে দাম কমাতে চান না।
বাজারে আসা গৃহিণী শাহানা আক্তার জানান, নিয়ম শিথিলের ঘোষণার পর পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলেও খুচরা পর্যায়ে তার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। শুধু মার্জিন প্রত্যাহার করলেই চলবে না, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে সাধারণ ক্রেতারা এই সুবিধার সুফল থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবেন।
সামগ্রিকভাবে, শতভাগ মার্জিনের শর্ত প্রত্যাহারের ফলে বাজারে ফলের সরবরাহ ও প্রতিযোগিতা বাড়বে। সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা বাজারেও ফলের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।