জুলাই মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বৈশ্বিক শিপিং ও লজিস্টিকস বাজারে এক অভূতপূর্ব অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে শিপিং শিল্পের পিক-সিজন সাধারণত গ্রীষ্মের শেষ বা শরতের শুরুতে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, চলতি বছরে তা অনেক আগেই অর্থাৎ জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতেই জাঁকিয়ে বসেছে। এর ফলে বিশ্বের প্রধান সামুদ্রিক রুটগুলোতে কন্টেইনার সংকট এবং জাহাজ বা ভেসেলের ধারণক্ষমতা নিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে আমদানিকারক ও বড় বড় খুচরা বিক্রেতারা সম্ভাব্য নতুন শুল্ক বা ট্যারিফ পরিবর্তন এবং বাণিজ্য নীতি কঠোর হওয়ার আশঙ্কায় আগেভাগেই পণ্য আমদানি করা শুরু করেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্রেতারা বছর শেষের ছুটির মৌসুম এবং ই-কমার্স সেলগুলোর কথা মাথায় রেখে নির্ধারিত সময়ের কয়েক সপ্তাহ আগেই পণ্য বুকিং করছেন। এই অতিরিক্ত ও আগাম চাহিদার কারণে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়া থেকে ইউরোপের প্রধান রুটগুলোতে জাহাজের জায়গার সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অনেক বড় বড় শিপিং লাইন ও কন্টেইনার ক্যারিয়ারের সার্ভিসগুলো জুলাই মাস পর্যন্ত আগেই সম্পূর্ণ বুক হয়ে গেছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বৈধ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সময়মতো কন্টেইনার বা জাহাজে জায়গা পাচ্ছেন না এবং তাদের কার্গো পরবর্তী শিফটে স্থানান্তরিত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অপ্রত্যাশিত এই আগাম চাহিদার কারণে প্রধান রপ্তানি বন্দরগুলোতে খালি কন্টেইনারের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ট্রানশিপমেন্ট হাবগুলোতে অতিরিক্ত জাহাজজট ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে বিলম্বের কারণে সার্বিক লজিস্টিকস চেইন ব্যাহত হচ্ছে। কন্টেইনার সময়মতো রিচ বা রি-পজিশন না হওয়ায় বন্দরগুলোতে বক্স বা কন্টেইনারের তীব্র আকাল পড়েছে। কার্যকর ক্যাপাসিটি কমে যাওয়ায় এবং আগাম চাহিদার চাপ থাকায় প্রধান রুটগুলোতে স্পট ফ্রেট রেট বা কন্টেইনার ভাড়ার হার হু হু করে বেড়ে গেছে। মূল ভাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শিপিং লাইন পিক-সিজন সারচার্জ, ফুয়েল ও বাঙ্কার অ্যাডজাস্টমেন্ট এবং ট্রানজিট রুট পরিবর্তনের বাড়তি খরচ যোগ করায় আমদানিকারকদের জন্য পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রুট পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক মেরিটাইম নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে কিছুটা সংকুচিত ছিল। তার ওপর এই আগাম পিক-সিজন ও ট্যারিফ আশঙ্কার বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে পণ্য পরিবহন খরচ এবং সময় দুটোই আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।