বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে দেশের প্রকাশনা ও মোড়কজাত শিল্পের সংকট নিরসনে নীতিগত সহায়তার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাগজ ও সেলোফেন ব্যবসায়ী গ্রুপ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল প্রস্তাবনাগুলো পেশ করেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় পণ্যের সক্ষমতা বাড়ানো।
কাঁচামাল আমদানিতে বৈষম্য দূর করার প্রস্তাব
বর্তমানে বাংলাদেশে উন্নতমানের পেপার ও পেপার বোর্ড আমদানিতে যে উচ্চমাত্রার শুল্ক বিদ্যমান, তা দেশীয় মোড়কজাত শিল্পের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটি প্লাস্টিক শিল্পের সাথে সমতা বজায় রেখে এই শুল্ক (CD) ৫% বা তার নিচে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ শুল্ক হারের কারণে বাজারে নিম্নমানের কাগজের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। শুল্ক কমানো হলে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
আপিল প্রক্রিয়ায় আর্থিক বোঝা কমানোর দাবি
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর একটি হলো আয়কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত আপিল পদ্ধতিতে সংস্কার। বর্তমানে অডিট আপত্তির বিপরীতে বিচার পেতে গেলে দাবিকৃত অর্থের ১০% থেকে ২৫% আগাম জমা দিতে হয়, যা অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি প্রকারান্তরে ব্যবসায়ীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে। সকল ক্ষেত্রে এই জামানত ৫% এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীদের চলতি মূলধন (Working Capital) আটকে না থাকে।
প্রযুক্তিগত সমন্বয় ও ব্যবসায়িক স্বস্তি
ASYCUDA World System-এর অধীনে লাইসেন্সধারী এবং ইপিজেড ব্যবসায়ীদের ন্যায় সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং দ্রুততা নিশ্চিত করতে হলে নীতিমালার এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। যথাযথ নীতি সহায়তা পেলে কাগজ ও সেলোফেন খাত দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় অবদান রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচে শেয়ার করুন।










