Home ব্যাংক-বিমা লভ্যাংশ কমলেও আকাশচুম্বী দর: জনতা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে রহস্যময় উল্লম্ফন

লভ্যাংশ কমলেও আকাশচুম্বী দর: জনতা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে রহস্যময় উল্লম্ফন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি জনতা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি (JANATAINS)-এর শেয়ার দরে অস্বাভাবিক অস্থিরতা। আজ ১৯ এপ্রিল ২০২৬তারিখে লেনদেন চলাকালীন কোম্পানিটির শেয়ার দর প্রায় ৯.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬.৫০ টাকায় পৌঁছায়। গত এক বছরের মুভিং রেঞ্জ (২০.৮০ – ৩৩.৯০ টাকা) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান বাজার দর গত ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
পি/ই রেশিও ও অতিমূল্যায়নের শঙ্কা
কোম্পানিটির অডিটেড আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমান পি/ই রেশিও (P/E Ratio) ২৫-এর উপরে অবস্থান করছে। সাধারণত বিমা খাতের জন্য এই মাত্রার পি/ই রেশিও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে।  লভ্যাংশ প্রদানের হারও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে।
২০২৩ সালে কোম্পানিটি ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলেও ২০২৪ সালে তা কমিয়ে ৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। লভ্যাংশ কমার পরেও শেয়ার দরের এমন উল্লম্ফন বাজার বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অস্থিরতা
শেয়ার হোল্ডিং প্যাটার্ন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ৮.৩১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.৯৮ শতাংশ হয়েছে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে এখনো ৫১ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে। শেয়ার দরের এই কৃত্রিম বৃদ্ধি বা স্পেকুলেশন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের লোকসানের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্বল রিজার্ভ ও লভ্যাংশ ইতিহাস
জনতা ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান রিজার্ভ ও সারপ্লাস ১৫৬.৭ মিলিয়ন টাকা, যা কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তার জন্য খুব একটা শক্তিশালী নয়। ১৯৯৪ সালে তালিকাভুক্ত এই ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির শেয়ার দর বর্তমানে যে অবস্থানে আছে, তা কোম্পানির মৌলিক আর্থিক অবস্থার (Fundamental Strength) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বর্তমান উচ্চ দরে শেয়ার কেনা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।