শিপিং ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শিপিং ও সামুদ্রিক বাণিজ্য খাতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক আধিপত্য বিস্তার করেছে চীন। ২০২৬ সালের সর্বশেষ বিআরএস শিপবিউডিং রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব জাহাজ নির্মাণ বাজারের (গ্লোবাল অর্ডারবুক) সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৭০.৯ শতাংশ শেয়ার এখন এককভাবে চীনের দখলে। এর মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে বহুদূরে ফেলে নিজেদের একচ্ছত্র একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি।
বিআরএস-এর বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চীন শুধু বাল্ক ক্যারিয়ার কিংবা সাধারণ কনটেইনার জাহাজের মতো প্রথাগত খাতেই তাদের আধিপত্য ধরে রাখেনি, বরং অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ও বিশেষায়িত এলএনজি ক্যারিয়ার এবং ভিএলসিসি নির্মাণেও এখন বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
একটা সময় পর্যন্ত এলএনজি ও উচ্চ প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার যে একচেটিয়া প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, তা ভেঙে দিয়ে চীনারা এখন সেখানেও শীর্ষস্থান দখল করেছে।
প্রতিবেদনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণের প্রধান সক্ষমতাগুলোর মধ্যে শ্রমশক্তি, পুঁজি, সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন), নকশা ও সাশ্রয়ী মূল্যের সূচকে চীন ১০০-এর মধ্যে ৯৬ স্কোর পেয়ে সবার শীর্ষে রয়েছে। এর বিপরীতে এক সময়ের শীর্ষ প্রতিযোগী দক্ষিণ কোরিয়ার স্কোর ৯০ এবং জাপানের স্কোর ৮০-তে নেমে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো অবকাঠামো ও দক্ষ শ্রমিকের সংকটের কারণে এই প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মূল কারণ তাদের শক্তিশালী শিল্প অবকাঠামো, দক্ষ প্রকৌশলী এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ ইস্পাত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ শৃঙ্খল। বৈশ্বিক বাণিজ্যে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী নতুন প্রজন্মের বড় বড় কনটেইনার ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহী জাহাজের যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, তার সিংহভাগ অর্ডারই এখন চীনের শীর্ষ ১০টি শিপইয়ার্ডের ঝুলিতে যাচ্ছে।
২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক অর্ডারবুক রিপোর্ট স্পষ্ট করে দেয় যে, আগামী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক শিপিং এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের গতিপথ অনেকটাই বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।