বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ব্যাপকভাবে তৎপর। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানিয়েছেন যে, এপ্রিল মাসে পাঁচটি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। সরবরাহকারীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। কোনো কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে বিকল্প হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, এঙ্গোলা, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। ফলে এখনই গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জিটুজি চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত কার্গো সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও আফ্রিকার সরবরাহকারীদের সঙ্গে জরুরি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। সৌদি আরামকো সৌদি আরবের বাইরে থেকে পরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে এবং কেবল সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানা ছাড়া অন্যান্য সার কারখানায় আপাতত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় ও অপচয় রোধে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ড্রাম বা কনটেইনারে তেল বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মজুতদারি ও চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিপিসি ও পাম্প মালিক সমিতির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রাহকদের স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এই সমন্বিত উদ্যোগ জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং মন্তব্য আমাদের জানান।










