Home আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীল তেলের বাজার: ১২৬ ডলার ছুঁয়ে আবার নিম্নমুখী

অস্থিতিশীল তেলের বাজার: ১২৬ ডলার ছুঁয়ে আবার নিম্নমুখী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 
মার্কিন-ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা বজায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায়। তবে পরবর্তীতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার মাঝেই দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের মূল্য প্রতি ব্যারেলে ১২৬.৪১ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। তবে দিনের মাঝামাঝি সময়ে এটি ৩.৩৬ শতাংশ বা ৩.৯৬ ডলার কমে ১১৪.০৭ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ২.২১ শতাংশ কমে ১০৪.৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যদিও দিনের শুরুতে এটি ১১০.৯৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
  • হরমোজ প্রণালী সংকট: বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী এই পথটি অবরুদ্ধ থাকায় বাজারে বড় ধরণের সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
  • স্বল্পমেয়াদী প্রভাব: জুন মাসের ডেলিভারি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরণের বিক্রয় আদেশের (Sell Order) কারণে দাম কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক তামাস ভারগা।
  • দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ: নিম্নমুখী প্রবণতা সত্ত্বেও উভয় বেঞ্চমার্কই টানা চতুর্থ মাসের মতো লাভের পথে রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে যাওয়ার ভয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।
অর্থনৈতিক পূর্বাভাস
আইইএ (IEA) এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে জেট ফুয়েল এবং ডিজেলের মতো পরিশোধিত পণ্যের দাম ইতোমধ্যে আকাশচুম্বী হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ তেলের বাজারে এই উচ্চ অস্থিরতা বজায় থাকবে যতক্ষণ না মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান আসে।