আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ২৬শে এপ্রিল উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত দেহাবশেষটি বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (এইচসিএসও)। তবে এই মরদেহ খুঁজে পাওয়ার পেছনে মূল সূত্র হিসেবে কাজ করেছে ঘাতক হিশাম আবুঘারবিয়াহর ফোনের লোকেশন হিস্ট্রি এবং তার অনলাইন কেনাকাটার তালিকা।
ফোনের লোকেশন ও কালো ব্যাগের সূত্র
তদন্তকারীরা জানান, জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তারা হিশামের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করতে শুরু করেন। হিশামের ফোনের ‘লোকেশন হিস্ট্রি’ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার সময়গুলোতে সে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের আশেপাশে এবং ম্যানগ্রোভ বনের নির্জন এলাকায় যাতায়াত করেছিল।
এই লোকেশন ট্র্যাক করেই গত ২৪শে এপ্রিল প্রথমে একটি কালো ব্যাগে লিমনের খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ঠিক তার কাছাকাছি এলাকাতেই গত ২৬শে এপ্রিল কায়াকাররা আরেকটি কালো ব্যাগের সন্ধান পায়, যা ছিল বৃষ্টির। গোয়েন্দারা দেখেছেন, হিশাম খুনের ঠিক আগেই অনলাইনে বড় সাইজের ব্যাগ এবং লাইটার ফ্লুইড অর্ডার করেছিল—যা মূলত মরদেহ গুম করার প্রস্তুতির অংশ ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজ ও পোশাকের মিল
বৃষ্টির মরদেহটি এতটাই খণ্ডিত ও বিকৃত অবস্থায় ছিল যে প্রাথমিকভাবে চেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবে হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বৃষ্টিকে শেষবার যে পোশাকে দেখা গিয়েছিল, উদ্ধারকৃত মরদেহের পরনের পোশাকের সাথে তার হুবহু মিল খুঁজে পায় পুলিশ। এটিই ছিল বৃষ্টির মরদেহ শনাক্তকরণের প্রথম বড় ধাপ।
ডিএনএ ও ডেন্টাল রেকর্ডে নিশ্চিত শনাক্তকরণ
পোশাকের মিল থাকলেও আইনিভাবে শতভাগ নিশ্চিত হতে বৃষ্টির দাঁতের রেকর্ড (Dental Records) এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ৩০শে এপ্রিল সেই পরীক্ষার ফলাফল আসার পর শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি নাহিদা বৃষ্টির। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, বৃষ্টি ও লিমনকে ঠিক একই সময়ে হত্যা করা হয়েছিল কি না।
বর্তমানে ঘাতক হিশাম দুটি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ চার্জে কারাগারে বন্দী। অন্যদিকে, মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।