কোনো কোম্পানি অবিক্রিত পণ্য বা অবিকৃত স্টক পুড়িয়ে ফেলতে পারবে না। পণ্যগুলো হয় পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করতে হবে অথবা পুনর্ব্যবহার (Recycle) করতে হবে।
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অবিক্রিত পোশাক ও জুতা ধ্বংস করার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের অস্থিরতা ও পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে ব্রাসেলসের এই কঠোর তদারকি নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর।
নতুন এই নীতি অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলোতে কোনো কোম্পানি তাদের অবিক্রিত পণ্য বা অবিকৃত স্টক পুড়িয়ে ফেলতে পারবে না। এর পরিবর্তে সেই পণ্যগুলো হয় পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করতে হবে অথবা পুনর্ব্যবহার (Recycle) করতে হবে। ইইউ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশ দূষণ কমানো এবং ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ বা দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন সংস্কৃতির লাগাম টেনে ধরা।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রভাব
বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য এই নীতি একই সাথে চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত করেছে।
প্রথমত, ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো এখন আর অতিরিক্ত পণ্য অর্ডার করার ক্ষেত্রে আগের মতো বেপরোয়া হতে পারবে না। যেহেতু পণ্য অবিক্রিত থাকলে তা ধ্বংস করার সুযোগ নেই, তাই তারা ছোট লটে বা সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে অর্ডার দেবে। এতে বাংলাদেশের অনেক বড় কারখানার জন্য অর্ডার ম্যানেজমেন্টে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ইইউ এখন আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে ‘ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট’ এবং রিসাইক্লিংয়ের সক্ষমতা যাচাই করছে। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের এখন এমন কাপড় উৎপাদন করতে হবে যা সহজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য। যেসব কারখানা ইতোমধ্যে সার্কুলার ফ্যাশন বা রিসাইক্লিং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে, তারা এই বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক হতে পারে। যদি বাংলাদেশের শিল্প উদ্যোক্তারা ইইউ-এর এই নতুন ইকো-ডিজাইন নীতিমালা মেনে উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করতে পারেন, তবে বিশ্ববাজারে ‘গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে দেশের অনেক টেক্সটাইল মিল ‘পোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়েস্ট’ বা ঝুট কাপড় থেকে সুতা তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে, যা এই নতুন ইউরোপীয় নীতির সাথে সংগতিপূর্ণ।
শিপিং ও লজিস্টিকস খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ-এর এই কঠোর অবস্থান বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইনকে আরও স্বচ্ছ করতে বাধ্য করবে। বাংলাদেশ যদি দ্রুত এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও থেকে যায়।