Home আন্তর্জাতিক  প্রেমের টানে পালিয়ে যাচ্ছে নাবালিকারা, নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়া

 প্রেমের টানে পালিয়ে যাচ্ছে নাবালিকারা, নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কোচবিহারের সীমান্তবর্তী এলাকা সিতাইয়ে নাবালিকাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। গত এক মাসেই সিতাই থানায় আটটি নাবালিকা নিখোঁজের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রেমঘটিত সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে উদ্বেগে পড়েছে অভিভাবক মহল ও পুলিশ প্রশাসন।

সিতাই থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহেই তিনটি নতুন নিখোঁজের ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে এক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকিদের ক্ষেত্রে তাদের নিজের ইচ্ছেতেই বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। মূলত অষ্টম থেকে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েদের মধ্যেই এই প্রবণতা বেশি দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সে ছেলেমেয়েরা বয়ঃসন্ধিকালের মধ্যে দিয়ে যায় এবং মনোজাগতিক ও শারীরিকভাবে এক প্রকার অস্থিরতা দেখা দেয়। এমজেএন মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. চিরঞ্জীব রায় বলেন, ‘‘এই বয়সে ছেলেমেয়েরা সহজেই ভালোবাসার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই সম্পর্কের জটিলতায় জড়িয়ে পড়ে। এতে বন্ধুবান্ধবই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান আশ্রয়।’’

পুলিশ প্রশাসনের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে এই বয়সের পড়ুয়ারা অনেক সময় বাইরের জগৎ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা পেয়ে থাকে। ফলে তারা অল্পদিনেই নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বাস্তবতা বুঝে ওঠার আগেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

সিতাই থানার আইসি দীপাঞ্জন দাস জানান, ‘‘পুলিশের তরফে আমরা স্কুলগুলিতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিচ্ছি। নাবালিকা বিয়ে, নারী পাচার, গুড টাচ ও ব্যাড টাচ ইত্যাদি বিষয়ে আমরা সচেতন করছি। তবু পরিস্থিতি উন্নতির বদলে জটিল হচ্ছে।’’

স্থানীয় শিক্ষক ভগীরথ বর্মন মনে করেন, অল্প বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছেলেমেয়েদের ভারসাম্য হারাতে বাধ্য করছে। তাঁর পরামর্শ, মেয়েদের পড়াশোনার পাশাপাশি গান, চিত্রাঙ্কন, যোগব্যায়ামের মতো সৃজনশীল কাজে যুক্ত রাখা প্রয়োজন।

নাবালিকাদের এইভাবে ঘর ছাড়া ও সম্পর্কের জালে জড়িয়ে পড়া থেকে শুরু করে পাচারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তবর্তী ব্লক হওয়ার কারণে এখানকার মেয়েরা পাচারের টার্গেট হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সিতাইয়ের বাসিন্দা ও অভিভাবক পাঞ্চালী রায়ের মন্তব্য, ‘‘আমারও মেয়ে আছে। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা হয়। এক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একা পুলিশ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।’’

অভিভাবক, শিক্ষক, পুলিশ ও সমাজের যৌথ উদ্যোগেই এই ভয়াবহ প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব-এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।