বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: ভারতের বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) বাজারে ২০২৫ সালে এক বড়সড় বিপ্লব ঘটে গেছে। ‘বাহন পোর্টাল’-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত IESA-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দেশে মোট ২৩ লাখ (২.৩ মিলিয়ন) বৈদ্যুতিক যানবাহন বিক্রি হয়েছে। এটি ভারতের মোট নতুন যানবাহন নিবন্ধনের ৮ শতাংশ।
২০২৫ সালে ভারতে সব মিলিয়ে মোট ২ কোটি ৮২ লাখ যানবাহন নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশই ছিল দুই চাকার যান (২০ মিলিয়নের বেশি), যা মোট বাজারের ৭২ শতাংশ। তবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা বৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি ছিল উৎসবের মরসুম এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা।
ইভি বিপ্লবে বরাবরের মতোই এগিয়ে রয়েছে দুই চাকার যান।
- ই-টু-হুইলার: ১.২৮ মিলিয়ন (১২.৮ লাখ) ইউনিট বিক্রি হয়েছে, যা মোট ইভি বিক্রির ৫৭ শতাংশ।
- ই-থ্রি-হুইলার: ০.৮ মিলিয়ন (৮ লাখ) ইউনিট বিক্রি হয়েছে (৩৫ শতাংশ শেয়ার)।
- ই-ফোর-হুইলার: মোট ১.৭৫ লাখ ইউনিট নিবন্ধিত হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও হালকা বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে ইভি-র ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
ইভি বিক্রির দৌড়ে রাজ্যগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ।
উত্তরপ্রদেশ: ৪ লাখের বেশি ইভি বিক্রি করে দেশের মোট ইভি বাজারের ১৮ শতাংশ দখল করেছে।
মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক: যথাক্রমে ২.৬৬ লাখ (১২%) এবং ২ লাখ (৯%) ইউনিট ইভি বিক্রি হয়েছে এই দুই রাজ্যে।
ইভি-টু-আইসিই অনুপাত: মোট সংখ্যার বিচারে কম হলেও প্রচলিত জ্বালানি (ICE) চালিত যানের তুলনায় ইভি গ্রহণের হারে চমক দেখিয়েছে ত্রিপুরা (১৮%), দিল্লি (১৪%), আসাম (১৪%), এবং কেরালা (১২%)।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ভারতে বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানের বাজার এখন যথেষ্ট পরিপক্ক (প্রায় ৩২% পেনিট্রেশন)। ২০২৫ সালের একটি বড় অর্জন ছিল PM E-DRIVE প্রকল্পের অধীনে ১০,৯০০টি বৈদ্যুতিক বাসের বিশাল টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া। ১০,৯০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
IESA-এর মতে, হালকা যানবাহনের পাশাপাশি এখন ভারী বাণিজ্যিক যানবাহনের বৈদ্যুতিকীকরণেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে একটি শক্তিশালী ইভি ইকোসিস্টেমে পরিণত করবে।










