Home সারাদেশ রৌমারীতে গুলি ছুড়ে বাংলাদেশি যুবককে ‘তুলে’ নিয়ে গেছে বিএসএফ

রৌমারীতে গুলি ছুড়ে বাংলাদেশি যুবককে ‘তুলে’ নিয়ে গেছে বিএসএফ

নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে আবারও অস্থিরতা। এবার গভীর রাতে গুলি ছুড়ে মিস্টার আলী (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় এখন চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মধ্যরাতে উত্তপ্ত সীমান্ত: যা ঘটেছিল
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্তবাসীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সূত্রপাত হয় রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী সীমান্তের ১০৬২-১০৬৩ নম্বর আন্তর্জাতিক মেইন পিলারের কাছে। গভীর রাতে একদল বাংলাদেশি যুবক ওই এলাকা দিয়ে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভারতের কুচনীমারা ও শাহপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অতর্কিতে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দলের অন্য সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হলেও বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন রতনপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মিস্টার আলী। তাকে উদ্ধার করে বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম।
চোরাচালান না কি অন্য কিছু?
ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি সূত্রের দাবি, ২০-২৫ জনের একটি বড় দল ওই সময় নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছিল। অন্য একটি সূত্র বলছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ৮-১০ জন যুবক কাঁটাতারের ওপর দিয়ে কম্বল পারাপার করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিএসএফ গেট খুলে বের হয়ে গুলি চালায় এবং মিস্টার আলীকে কবজায় নেয়। তবে ঘটনার সময় বিএসএফের ছোড়া গুলিতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিজিবির অবস্থান ও নীরব বিএসএফ
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানিয়েছেন:

“আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।”

অন্যদিকে, এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব নিয়ে বিজিবি কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। মোল্লাচর ক্যাম্পের কমান্ডার দাবি করেছেন, ঘটনাটি তার এলাকার বাইরে ঘটেছে। তবে রৌমারী সদর ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টহলরত সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি
মিস্টার আলীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনকে ফিরে পেতে বিজিবির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সীমান্তে গুলি চালানো এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে রৌমারীর এই ঘটনা আবারও দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মিস্টার আলীকে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই এখন স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবারের প্রধান দাবি।