বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির উপর কর বৃদ্ধির যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা দেশের অটোমোবাইল খাতে একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) এই বাড়তি কর প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, এমনিতেই ডলার সংকট ও অর্থনৈতিক নানা চাপের কারণে মোটরযান খাত কঠিন সময় পার করছে, এর ওপর নতুন করে কর বাড়ানো হলে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণে এই সিদ্ধান্ত বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
বাজেট প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার পরিবেশবান্ধব ও বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা দিয়েছে। তবে বারভিডার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সুবিধাগুলো এখনো বাস্তবসম্মত নয়। কারণ ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে কিছু ছাড় দেওয়া হলেও উচ্চ উৎপাদন মূল্যের কারণে বাজারে এসব গাড়ির প্রাথমিক দাম অনেক বেশি। ফলে সুবিধা দেওয়ার পরেও এই গাড়িগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। একই কথা প্রযোজ্য ইলেকট্রিক বাসের ক্ষেত্রেও; কর ছাড় দেওয়া হলেও উচ্চ মূল্যের কারণে এর সুফল সাধারণ ভোক্তা বা যাত্রীরা সরাসরি পাবেন না।
বাজেটে আরেকটি বড় বৈষম্যের জায়গা হলো ব্র্যান্ড নিউ এবং রিকন্ডিশন্ড প্লাগইন হাইব্রিড গাড়ির শুল্ক কাঠামো। বারভিডা দীর্ঘদিন ধরে এই দুই ধরনের গাড়ির জন্য সমান শুল্ক সুবিধা এবং হাইব্রিড গাড়ির সার্বিক প্রসারে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতিগত সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছে। একটি সুষম শুল্ক কাঠামো না থাকলে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়, যা পরোক্ষভাবে সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পাশাপাশি, রাজস্ব আদায়ের বিকল্প উৎস হিসেবে বারভিডা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক ইলেকট্রিক রিকশা চলাচল করলেও এগুলোকে কোনো সুনির্দিষ্ট কর বা নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়নি। এই খাতটিকে নিয়মের মধ্যে এনে নিবন্ধন ও করের আওতায় আনা হলে একদিকে যেমন সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব পেত, অন্যদিকে গণপরিবহন খাতে একটি দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করা সম্ভব হতো।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক বাজেট উত্তর প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বারভিডা সভাপতি আব্দুল হক এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলেও এসব গাড়ির দাম এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। একইভাবে ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে কর ছাড় দেওয়া হলেও উচ্চমূল্যের কারণে এর সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইলেক্ট্রিক রিকশাকে নিবন্ধন ও করের আওতায় আনা হলে সরকার যেমন রাজস্ব পেত, তেমনি এ খাতেও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো।” রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারকে সচল রাখতে এবং ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে পরিবেশবান্ধব গাড়ি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্লাগইন হাইব্রিড ও রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত শুল্ক কাঠামো প্রণয়নেরও জোর দাবি জানান তিনি।
নিয়মিত এমন তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণমূলক সংবাদ পেতে businesstoday24.com ফলো করুন










