স্বপ্নপূরীর আনন্দ বিষাদে রূপান্তর
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: নরসিংদীর পাঁচদোনায় চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্যরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, ক্র্যাব সদস্যরা সপরিবারে ড্রিম হলিডে পার্কে ‘ফ্যামিলি ডে’ উদযাপন করতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য পার্কের সামনে রাখা গাড়িতে ওঠার সময় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ও তাদের পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলার শিকার সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন:
- ফয়েজ আহমেদ (বাংলাভিশন)
- মহসিন কবির (গাজী টেলিভিশন)
- শাহেদ আহমেদ (খবর সংযোগ)
- শাখাওয়াত কাউসার (সাংবাদিক)
- লাল মিয়া (স্টাফ, ক্র্যাব)
হামলার বর্ণনা দিয়ে ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির হেড অব নিউজ এম এম বাদশা বলেন, “আমরা সপরিবারে আনন্দঘন সময় কাটিয়ে ফিরছিলাম। হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী আমাদের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি করে। প্রতিবাদ করায় তারা নির্বিচারে হামলা চালায়। নারী ও শিশুদের কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফয়েজ আহমেদ ও মহসিন কবিরসহ পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপর জেলা পুলিশ সুপারকে ফোন করা হয়। তিনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন। কিন্তু পুলিশ আসতে দেরি হওয়ায় তারা আরো বেপরোয়াভাবে হামলা চালায়।
এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়। ঘটনায় দুজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. আলাল সরকার ও রনি মিয়া নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় বেপরোয়া চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্রিম হলিডে পার্ক ও তৎসংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এই এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরেই একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই চক্রটি সেখানে নিয়মিত চাঁদাবাজি চালিয়ে আসলেও প্রশাসন দৃশ্যত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। দীর্ঘদিনের এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সন্ত্রাসীদের কতটা বেপরোয়া করে তুলেছে, তার প্রমাণ মেলে সাংবাদিকদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলায়।
সন্ত্রাসীরা জানত তারা কাদের ওপর হামলা করছে। নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও যখন পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে—নেপথ্যে থাকা কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা এই স্পর্ধা পেয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে খোদ ঢাকার অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদকরাই নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ পর্যটক ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা কতটুকু?
স্থানীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই চক্রের নেপথ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক বা স্থানীয় নেতা রয়েছেন, যাদের মদদ ছাড়া মহাসড়কের পাশে এভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করা অসম্ভব। প্রশাসনের উদাসীনতা এই সন্ত্রাসীদের মনে এমন এক ধারণার জন্ম দিয়েছে যে, তারা আইনের ঊর্ধ্বে। ফলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরও তারা পিছপা না হয়ে উল্টো আরও হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com










