Home সারাদেশ তনু হত্যা মামলা: ফেসবুক বিবৃতিতে যা জানালেন ডা. কামদা প্রসাদ 

তনু হত্যা মামলা: ফেসবুক বিবৃতিতে যা জানালেন ডা. কামদা প্রসাদ 

সোহাগী জাহান তনু
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কুমিল্লা: সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর পর সৃষ্ট বিতর্কের মুখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের তৎকালীন প্রধান এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এই চিকিৎসক সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছেন।
সেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা দেশত্যাগের গুঞ্জনকে ‘মিথ্যা’ ও তাকে নিয়ে চলা সমালোচনাকে ‘চরিত্রহনন’ বলে আখ্যা দেন।
ডা. কামদা প্রসাদ সাহা
বিবৃতিতে ডা. সাহা উল্লেখ করেন, তনুর প্রথম ময়নাতদন্তের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলনের পর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘ সময় পর লাশ উত্তোলনের ফলে শরীর পচে যাওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি কারিগরি ব্যাখ্যা দেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিআইডির মাধ্যমে তনুর পোশাকে তিন পুরুষের শুক্রাণুর ডিএনএ পাওয়ার বিষয়টি দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ডা. কামদা প্রসাদ সাহা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রিপোর্টে তনুর চরিত্র নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়নি। সাধারণ মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে রিপোর্টের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে।
তিনি আরও জানান, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে তার দেশত্যাগের যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বর্তমানে তিনি জীবন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর দীর্ঘ সময় তদন্তে স্থবিরতা ছিল। সম্প্রতি পিবিআই তদন্তভার গ্রহণের পর তিনজনের ডিএনএ ম্যাচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ-ও এই মামলায় সংশ্লিষ্ট বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।