চলতি বছরের এপ্রিলের তীব্র তাপদাহ দিনাজপুরের লিচু চাষিদের চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ বাগানে এখন লিচু গুটি থেকে কিছুটা বড় আকারে রূপান্তরিত হচ্ছে। তবে দীর্ঘসময় বৃষ্টি না হওয়ায় এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক বাগানে লিচুর গুটি শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত সকালে ও বিকেলে গাছে পানি স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ফলন ও লক্ষ্যমাত্রা জেলায় এবার লিচুর মুকুল গত বছরের তুলনায় বেশ ভালো এসেছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দিনাজপুরে এবার রেকর্ড পরিমাণ লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সদর উপজেলা, বিরল, চিরিরবন্দর ও মাশিমপুর এলাকার বাগানগুলোতে এখন শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে।
জাতভিত্তিক অগ্রগতি মাদ্রাজি ও বোম্বে জাতের লিচুগুলো আকারে বড় হতে শুরু করেছে। তবে দিনাজপুরের বিখ্যাত ‘বেদানা’ এবং ‘চায়না-থ্রি’ জাতের লিচুর গুটিগুলো এখনো ছোট অবস্থায় আছে। সঠিক সেচ ও বালাইনাশক প্রয়োগ করা গেলে মে মাসের শেষ নাগাদ মাদ্রাজি লিচু বাজারে আসতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজার দর ও প্রস্তুতি এখনো বাজারে লিচু আসার সময় না হলেও বড় বড় পাইকাররা ইতোমধ্যে বাগান মালিকদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে প্রচণ্ড গরমের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লিচুর দাম কিছুটা চড়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগের বিশেষ পরামর্শ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে রোদের তাপ থেকে লিচু বাঁচাতে গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত সেচ দিতে হবে এবং ফল ফেটে যাওয়া রোধে বোরন সার মিশ্রিত পানি স্প্রে করা জরুরি।