বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেট ও সুনামগঞ্জের তিনটি আসনে বিএনপির দ্বৈত মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে এসব আসনে দুজন করে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যেই এসব আসনে বিকল্প প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মনোনয়ন বিভ্রাটে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ
সিলেট ও সুনামগঞ্জের তিনটি আসনে দুই প্রার্থীই সমানতালে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কাকে সমর্থন দেবেন, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। অনেক এলাকায় এ নিয়ে বিড়ম্বনা ও নেতাকর্মীদের মাঝে প্রকাশ্য বিরক্তি লক্ষ্য করা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা বা আইনি শঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এসব আসনে ‘ডামি’ বা বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছিল।
সিলেট-৬: ফয়সল বনাম এমরান
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং জেলা কমিটির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী—উভয়কেই মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফয়সল আহমদ চৌধুরী প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন। এই আসনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এখন বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা।
সুনামগঞ্জে পরিবর্তনের হাওয়া
সুনামগঞ্জ-১ আসনে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক দুই চেয়ারম্যান আনিসুল এবং কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ-২ আসনে প্রবীণ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর পাশাপাশি জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাছির চৌধুরী অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং যোগ্য নেতা হলেও বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা বিএনপির নেতা সারোয়ার আলম লিটন বলেন, “নাছির চৌধুরী অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, কিন্তু বর্তমান শারীরিক অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের ধকল নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন। দলকে জেতাতে হলে তরুণ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে তাহির চৌধুরী পাভেলই এখন সবচেয়ে যোগ্য।”
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, এটি দলের একটি কৌশলগত অবস্থান। তিনি বলেন, “যেসব আসনে আইনি বা কারিগরি সমস্যা তৈরির শঙ্কা ছিল, সেখানেই বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা এসব আসনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব এবং ২০ জানুয়ারির আগেই একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।”
চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে প্রার্থীর শারীরিক সক্ষমতা ও আইনি বৈধতার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড।