বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষমতার বলয়ে চিরাচরিত ‘ভিভিআইপি প্রটোকল’ এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাত্রার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো সাদামাটা চলাচলের পথ বেছে নিয়েছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার প্রথম কর্মদিবসে তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা দেন। বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব সাদা রঙের টয়োটা গাড়ি, ব্যক্তিগত চালক এবং নিজের টাকায় কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন।
রাষ্ট্রের শীর্ষ নির্বাহীর এই পদক্ষেপ সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি জনমনে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রাজধানীর চিরচেনা যানজট থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়িবহর এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে এনেছেন।
গাড়িবহর: আগে যেখানে ১৩-১৪টি গাড়ি প্রটোকলে থাকত, সেখানে এখন মাত্র ৪টি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পতাকাবিহীন যাত্রা: রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি মেহমানদের প্রটোকল ছাড়া সাধারণ যাতায়াতে তিনি গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবেন না।
পুলিশি পাহারা বর্জন: প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘক্ষণ পোশাকধারী পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকার প্রচলিত নিয়মটিও তিনি বাতিল করেছেন।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জনস্বার্থ
মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগে সব মন্ত্রীকে সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে হতো, যা দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সচিবালয়ে বৈঠক হলে কাজের গতি বাড়বে এবং প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় সহজ হবে।
বাস্তব চিত্র: যানজটে আটকা পড়া প্রধানমন্ত্রী
বুধবারের কর্মসূচিতে দেখা গেছে এক বিরল দৃশ্য। শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ফেরার পথে সাধারণ যানবাহনের ভিড়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যানজটে আটকা পড়ে। এমনকি সন্ধ্যাবেলা সচিবালয় থেকে ফেরার পথেও কোনো বিশেষ প্রটোকল ছাড়াই সার্ক ফোয়ারা মোড় অতিক্রম করেন তিনি।
এই চিত্রটি প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল মুখে নয়, বরং বাস্তবেও জনগণের ভোগান্তি ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।
এই পরিবর্তনের তাৎপর্য কী?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই পদক্ষেপগুলো দীর্ঘদিনের ‘ভিআইপি কালচার’ বা বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণির ধারণা ভাঙতে সাহায্য করবে। এটি প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি প্রাথমিক ধাপ।
প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করেন, তখন তা পুরো মন্ত্রিসভা এবং আমলাতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী নৈতিক বার্তা হিসেবে কাজ করে।
businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং এই নতুন রাজনৈতিক ধারা সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।