বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশ। মার্কিন সরকারের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য ই১ (E1) ও ই২ (E2) ভিসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘ভিসা বন্ড’ জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।
আগামী ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে।
বন্ডের পরিমাণ ও প্রক্রিয়া
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা সাপেক্ষে একজন আবেদনকারীকে ৫,০০০, ১০,০০০ অথবা ১৫,০০০ ডলার (প্রায় ৬ লক্ষ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা) বন্ড হিসেবে জমা দিতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে এই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
এই অর্থ জমা দিতে হবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে।
কেন এই কঠোরতা?
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ মূলত ‘ভিসা ওভারস্টে’ বা মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করার প্রবণতা কমানোর একটি পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টা ।
ওভারস্টে রেট: ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্যমতে, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার বেশি, তাদেরই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ: নির্দিষ্ট প্রবেশদ্বার (যেমন: জেএফকে বা বোস্টন বিমানবন্দর) দিয়ে যাতায়াতের বাধ্যবাধকতা মূলত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ।
অর্থ ফেরতযোগ্যতা: এটি কোনো ফি নয়, বরং জামানত। শর্ত মেনে সঠিক সময়ে দেশে ফিরলে এই অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। তবে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন (যেমন: রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া) করলে এই অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
এই নতুন নিয়ম নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে: “বন্ডের এই বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করা মধ্যবিত্তের জন্য অসম্ভব। এটি মূলত আমাদের মতো দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথ আরও কঠিন করে তুলবে।” — আরিফুল ইসলাম, উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারী।
“৫ থেকে ১৫ হাজার ডলার জামানত রাখা অনেকের জন্যই বড় ঝুঁকি। তবে যদি সঠিক সময়ে ফিরে আসলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়, তবে যারা প্রকৃত ভ্রমণকারী তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।” — সায়মা আক্তার, ব্যবসায়ী।
মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, বন্ড জমা দিলেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লেনদেন না করতে এবং কনস্যুলার নির্দেশনার আগে অর্থ প্রদান না করতে সতর্ক করা হয়েছে।









