Home First Lead সংসদকে জনস্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

সংসদকে জনস্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দীর্ঘ দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে আবারও কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিয়ে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ নেতা হিসেবে দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সকল যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু।
অধিবেশনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকার জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। জনগণের কণ্ঠরোধ করে সংসদকে করা হয়েছিল হাস্যরসের খোরাক। তিনি ঘোষণা করেন, “আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি-তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল সংসদে তাঁর প্রথম বক্তব্য। তিনি স্মরণ করেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে শহীদ ও নির্যাতিতদের। তিনি বলেন, “হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ আর আয়নাঘরের মতো নিষ্ঠুর বন্দিশালার অন্ধকার পেরিয়ে আমরা আজ এক ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন। আজ দেশ যখন সেই কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রে ফিরল, তখন তিনি আমাদের মাঝে নেই। তাঁর সেই আদর্শই আমাদের পথচলার শক্তি।”
পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, “ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি।”
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান এক বলিষ্ঠ ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের দল, মত বা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু তাবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এই সংসদে কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি কেবল দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি।”
বিগত সরকারের পতনের পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে এই অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে ১৯৭৩ সালের সংসদীয় রীতিনীতির উদাহরণ টেনে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল দিকগুলো একনজরে:

  • স্বনির্ভর বাংলাদেশ: প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া।
  • গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা: সংসদকে সকল আলোচনার মূল কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা।
  • জাতীয় ঐক্য: ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে সকল নির্বাচিত সদস্যের সহযোগিতা কামনা।

দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং ভঙ্গুর সংসদীয় ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের একটি রোডম্যাপ।