Home First Lead হরমুজ সংকট : ছয় মাসের অনিশ্চয়তায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার

হরমুজ সংকট : ছয় মাসের অনিশ্চয়তায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করা বর্তমানে ‘অসম্ভব’।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এক অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে, যেখানে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার জন্য কিছু শর্ত দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং প্রণালীটি খুলে দেওয়া।

ট্রাম্প এর আগে শর্ত না মানলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও, মঙ্গলবার তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ইরান জানিয়েছে, তাদের তেল-নির্ভর অর্থনীতির ক্ষতি করতে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে, তা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকবে।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বুধবার রাতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নৌ-অবরোধের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, সামরিক আগ্রাসন বা ভয় দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।

এদিকে পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে জানিয়েছেন, গত মার্চ থেকে ইরান যে মাইনগুলো স্থাপন করেছে, সেগুলো সরাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। এমনকি যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মাইন অপসারণ কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী নিজেরাই এখন তাদের পেতে রাখা মাইনগুলো খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে মাইন স্থাপনকারী ইরানি জাহাজগুলো ধ্বংস করছে এবং তারা কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালীকে জিম্মি হতে দেবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জলপথটি পুনরায় সচল করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভিজিট করুন www.businesstoday24.com