জার্মান শিপিং জায়ান্ট হ্যাপাগ-লয়েড ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় গর্ব হিসেবে পরিচিত শিপিং কোম্পানি ‘জিম’ (Zim) ক্রয়ের জন্য ৪.২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে হ্যাপাগ-লয়েড বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কন্টেইনার শিপিং লাইন হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল।
চুক্তির মূল্য: হ্যাপাগ-লয়েড জিম-এর প্রতিটি শেয়ার ৩৫ ডলারে কেনার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫৮% বেশি।
যৌথ বহর: এই একীভূতকরণের পর ৪৫০টিরও বেশি জাহাজ এবং ৩০ লাখ টিইউ (TEU) সক্ষমতার এক বিশাল শিপিং নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।
কার্ভ-আউট প্ল্যান: জিমের মূল আন্তর্জাতিক ব্যবসা হ্যাপাগ-লয়েড কিনে নিলেও, ইসরায়েলি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড ‘FIMI’ একটি নতুন সত্তা (New Zim) গঠন করবে। এই নতুন সত্তাটি ১৬টি জাহাজ নিয়ে ইসরায়েলের কৌশলগত রুটগুলো পরিচালনা করবে।
বিতর্কের কারণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
চুক্তিটি সম্পন্ন হলেও এটি এখন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে।
১. কৌশলগত সম্পদ হারানো: ইসরায়েল জিম-কে কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার একটি অংশ মনে করে। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় জরুরি রসদ সরবরাহে জিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. আরব মালিকানা নিয়ে উদ্বেগ: হ্যাপাগ-লয়েডের শেয়ারহোল্ডার তালিকায় কাতার (১২.৩%) এবং সৌদি আরবের (১০.২%) মালিকানা রয়েছে। হামাস ও আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কাতার ও সৌদির সম্পৃক্ততা ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
৩. শ্রমিক অসন্তোষ: প্রায় ৮০০ কর্মী এই চুক্তির প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করেছেন। তাদের আশঙ্কা, কোম্পানিটি বিভক্ত হলে প্রায় ৯০০ কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। যদিও হ্যাপাগ-লয়েড দাবি করেছে অন্তত এক বছর চাকরি নিরাপদ থাকবে।
ইসরায়েল সরকারের কাছে জিমের ‘গোল্ডেন শেয়ার’ (বিশেষ ক্ষমতা) রয়েছে, যার ফলে তারা যেকোনো বড় মালিকানা পরিবর্তন আটকে দিতে পারে। ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রী মিরি রেগেভ ইতিমধ্যে এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি কি না তা খতিয়ে দেখতে রিভিউ অর্ডার দিয়েছেন। হাইফার মেয়রও এই চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
হ্যাপাগ-লয়েডের প্রত্যাশা
শিপিং খাতে বর্তমানে অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং ভাড়ার হার কমে যাওয়ায় হ্যাপাগ-লয়েড চাপে ছিল। জিম-কে অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা বছরে ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় এবং বিশ্বজুড়ে তাদের রুট বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে আরও প্রায় ৯ মাস সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে ডজনখানেক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং ইসরায়েল সরকারের সবুজ সংকেত প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই ‘শিপিং ডিল’ শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।