বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: এক সময়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডক্টর আবু সাইয়িদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
সাক্ষাৎকালে ডক্টর আবু সাইয়িদ বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ ফরম পূরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
যোগদান পরবর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবু সাইয়িদ বলেন, “দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরিক হতেই আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।”
অন্যদিকে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আবু সাইয়িদের মতো প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের অন্তর্ভুক্তি গণতন্ত্রের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।
ডক্টর আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগদান কেবল একজন নেতার দলবদল নয়, বরং এর গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে:
সংবিধান ও আইনি গ্রহণযোগ্যতা: ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে তার একটি বিশেষ পরিচয় রয়েছে। তার বিএনপিতে আসা দলটির জন্য একটি বড় নৈতিক বিজয়, কারণ বিএনপি প্রায়ই বর্তমান সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনীর সমালোচনা করে থাকে।
আওয়ামী লীগের সাবেক ভিত্তি: দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত থাকা এবং শেখ হাসিনার সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন নেতার বিএনপিতে আসা প্রমাণ করে যে, পুরনো বা অভিজ্ঞ নেতাদের একটি অংশ বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে বিকল্প খুঁজছেন।
অভিজ্ঞতা ও মেধা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি হিসেবে ছাত্র রাজনীতি থেকেই তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আইনি জ্ঞান বিএনপিকে ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সহায়তা করতে পারে।
দলীয় মনোবল বৃদ্ধি: নির্বাচন বা আন্দোলনের প্রাক্কালে এ ধরনের হাই-প্রোফাইল যোগদান তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডক্টর আবু সাইয়িদের মতো ব্যক্তিত্বের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তার প্রভাব দলটির জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
আপনি কি এই যোগদানের ফলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক জোটে কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন? না কি এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন?










