বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড। পর্যাপ্ত কাঁচামাল না থাকায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ ১৬ ধরনের জ্বালানি তেল উৎপাদনে দেশ এক চরম ঝুঁকির মুখে পড়ল।
সংকটের মূলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ বিঘ্ন
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই এই শোধনাগারটি কাঁচামালের সংকটে ভুগছিল। গত ৫ এপ্রিল থেকে বিকল্প উপায়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম জানান, তেলের অভাবে প্রধান ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, বর্তমানে কেবল সীমিত পরিসরে বিটুমিন উৎপাদন চালু রয়েছে।
সরবরাহে ঘাটতি ও বিকল্প ব্যবস্থা
দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার টন জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকা এই শোধনাগার বন্ধ হওয়ায় বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বিদেশ থেকে সরাসরি ‘ফিনিশড প্রোডাক্ট’ বা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করছে।
পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা
সংকটের একটি বড় কারণ হিসেবে সৌদি আরব থেকে ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, আগামী ১৮ এপ্রিল সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েলের একটি নতুন চালান পাঠানোর কথা রয়েছে। এই চালানটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে শোধনাগারটির তৃতীয় ইউনিটে নামমাত্র পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদিত হলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।