
জিয়া পরিবারের সাথে চট্টগ্রামের টান নাড়ির
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দীর্ঘ ২০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বীর চট্টলার মাটিতে পা রেখেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জননেতার আগমনে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় এই জনপদে নেতার উপস্থিতিকে ঘিরে জনমনে বইছে প্রবল উদ্দীপনা।
আগামীকাল ২৫ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ডের ঐতিহাসিক জনসভাকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খোন্দকার।
প্রশ্ন: দীর্ঘ ২০ বছর পর তারেক রহমান এখন চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। নেতাকে কাছে পেয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া আপনার চোখে কেমন?
গোলাম আকবর খোন্দকার: দেখুন, চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের সাথে জিয়া পরিবারের সম্পর্ক হৃদয়ের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই চট্টগ্রামের মাটি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন; ১৯৭৯ সালে দল গঠনের ঘোষণাও তিনি এখান থেকেই দিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশক পর আমাদের নেতা তারেক রহমানকে নিজেদের মাঝে পেয়ে চট্টগ্রামের আপামর জনতা আজ উদ্বেলিত। তিনি আজ চট্টগ্রামে পা রাখার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে যে স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ দেখেছি, তাতে স্পষ্ট যে আগামীকাল পলোগ্রাউন্ডে শুধু জনসভা নয়, এক ঐতিহাসিক ‘জনসমুদ্র’ তৈরি হতে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, ১০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখতে ও শুনতে সেখানে সমবেত হবেন।
প্রশ্ন: চট্টগ্রামের প্রতি জিয়া পরিবারের একটি বিশেষ টানের কথা আপনারা সবসময় বলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?
গোলাম আকবর খোন্দকার: চট্টগ্রামের প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আমাদের গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের হৃদয়ের গভীর থেকে একটি নাড়ির টান রয়েছে। যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, জিয়া পরিবার এই চট্টগ্রামকেই বিপ্লবের চারণভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও মনে করেন, এই বীর প্রসবিনী মাটি থেকেই আগামীর সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে।
প্রশ্ন: এই জনসভায় তারেক রহমানের কাছ থেকে দেশবাসী কী ধরনের দিকনির্দেশনা আশা করতে পারে?
গোলাম আকবর খোন্দকার: তারেক রহমান শুধু বিএনপি বা ধানের শীষের নেতা নন, তিনি আজ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি। ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর তিনি খুব সংক্ষেপে কথা বলেছিলেন, কিন্তু আগামীকাল চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ডে তিনি জাতির সামনে বিস্তারিত পথনকশা তুলে ধরবেন। তিনি শুধু দলের কথা বলবেন না, বরং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখা দেবেন। তারেক রহমানের এই বক্তব্য হবে বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন মাইলফলক।
প্রশ্ন: মাঠ পরিদর্শন শেষে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার বিশেষ কোনো নির্দেশনা আছে কি?
গোলাম আকবর খোন্দকার: আমরা আজ পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন করেছি। সঙ্গে ‘ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান তারেক আকবর খোন্দকারসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ছিলেন। নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে আহ্বান জানাই—শান্তিপূর্ণভাবে এই জনসভায় যোগ দিয়ে ইতিহাসের অংশ হোন। ইনশাআল্লাহ, আগামীকালের জনসভা থেকে আমাদের নেতা তারেক রহমান যে দিকনির্দেশনা দেবেন, তাতেই দেশের মানুষ মুক্তির দিশা খুঁজে পাবে।
এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com









