Home Second Lead স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার পার, বাজারে হাহাকার

স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার পার, বাজারে হাহাকার

স্বর্ণের দামে ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র পর নতুন রেকর্ড

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,ঢাকা: দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে দেশে প্রথমবারের মতো ভালো মানের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ২১শে জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার থেকে সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র: কাগজের দামে আকাশছোঁয়া, দোকানে ক্রেতাশূন্য
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ার খবর আসলেও বাস্তবে জুয়েলারি দোকানগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বায়তুল মোকাররম, তাঁতীবাজার ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই ক্রেতার দেখা নেই। অলঙ্কার বিক্রির চেয়ে মানুষ এখন পুরনো স্বর্ণ বিক্রি করে নগদ টাকা নিতেই বেশি আগ্রহী।
নতুন দামের এক নজরে তালিকা:
২২ ক্যারেট (ভরি): ২,৪৪,১২৮ টাকা
২১ ক্যারেট (ভরি): ২,৩২,৯৮৮ টাকা
১৮ ক্যারেট (ভরি): ১,৯৯,৭৪৬ টাকা
রুপা (২২ ক্যারেট): ৬,৫৯০ টাকা (ভরি)
স্বর্ণকার ও কারিগরদের আর্তনাদ: “কাজ নেই, আমরা বেকার”
পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের প্রবীণ স্বর্ণকার বিমল কর্মকার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন:

“বাপ-দাদার আমল থেকে এই কাজ করছি, কিন্তু এমন দিন দেখিনি। আগে বিয়ের সিজনে দম ফেলার সময় পেতাম না। এখন মানুষ শুধু দাম শুনেই চলে যায়। অর্ডার নেই বললেই চলে। অনেক কারিগর এখন পেশা বদলে রিকশা চালাচ্ছে বা গ্রামে ফিরে যাচ্ছে।”

কারিগরদের দাবি, স্বর্ণের দাম বাড়লে তাদের লাভ হয় না, উল্টো কাজ কমে যায়। গয়না তৈরির মজুরি দিয়ে তাদের সংসার চলে, কিন্তু বিক্রি না থাকলে মজুরি আসবে কোথা থেকে?
সাধারণ মানুষ ও ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া: “স্বর্ণ এখন বিলাসিতা নয়, স্বপ্ন”
বিয়ের গয়না কিনতে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মকবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“মেয়ের বিয়ের জন্য কিছু জমানো টাকা নিয়ে এসেছিলাম। গত সপ্তাহে যে বাজেট ছিল, আজ তা দিয়ে অর্ধেক গয়নাও হচ্ছে না। ভরিতে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা হলে সাধারণ মধ্যবিত্তের পক্ষে কি আর সোনা কেনা সম্ভব? আমাদের জন্য সোনা কেনা এখন স্বপ্নের মতো।”

গৃহিণী নাজমা বেগম জানান, “দাম বাড়ার খবরে ভাবছিলাম পুরনো কিছু গয়না বদলে নতুন কিছু বানাবো। কিন্তু দোকানে এসে শুনলাম মজুরি আর ভ্যাট মেলালে আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছি।”
কেন এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি?
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণের’ (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের অস্থিরতার কারণে মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কিনে রাখছে, যা বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
কাগজে-কলমে স্বর্ণের দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বড় শোরুমগুলো কোনোমতে টিকে থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা এখন অস্তিত্ব সংকটে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় দেশের অলঙ্কার শিল্প এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।