বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-০৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে রাজনৈতিক আলোচনা এখন তুঙ্গে। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন এবং চট্টগ্রামের জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম ।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর হলফনামা ও আয়কর নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পেশাগতভাবে যেমন তিনি সফল, তেমনি তাঁর আর্থিক বিবরণীতেও রয়েছে সচ্ছলতার চিত্র ।
পেশাগত পরিচয় ও শিক্ষা
এটিএম রেজাউল করিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস । তিনি বর্তমানে পার্কভিউ হাসপাতালের মতো একটি বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন । হলফনামায় তিনি তাঁর বর্তমান ও পূর্বতন উভয় পেশা হিসেবে ‘চিকিৎসক’ উল্লেখ করেছেন । তাঁর স্ত্রী কোহিনুর নাহার চৌধুরীও একজন চিকিৎসক ।
আর্থিক বিবরণী: বাৎসরিক আয় ও সম্পদ হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী ডা. রেজাউল করিমের আর্থিক অবস্থা বেশ শক্তিশালী:
বাৎসরিক আয়: তাঁর ব্যক্তিগত বাৎসরিক আয় ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৫০৭ টাকা । এর মধ্যে চিকিৎসা পেশা থেকে আসে ২৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সম্মানী খাত থেকে আসে ১২ লাখ টাকা ।স্ত্রীর আয়: তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮২ টাকা ।
আয়কর প্রদান: সর্বশেষ করবর্ষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৬২৭ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন ।
সম্পদ বিবরণী: কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ চোখে পড়ার মতো:
অস্থাবর সম্পদ: ডা. রেজাউল করিমের মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার ৬২ টাকা । এর মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত এবং কোম্পানির শেয়ার (১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে । তাঁর স্ত্রীর নামেও ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার ৩৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ।
স্থাবর সম্পদ: চট্টগ্রামে তাঁর ১২০,০০,০০০ (এক কোটি বিশ লাখ) টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে (২০০০ ও ২৩০০ বর্গফুটের) । এছাড়াও তাঁর নামে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩.৬ কাঠা অকৃষি জমি রয়েছে ।
নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস ডা.
রেজাউল করিম তাঁর নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজস্ব চিকিৎসা পেশার আয় থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন । এছাড়াও তাঁর আত্মীয়-স্বজন (ভাগ্নে, শ্যালিকা, ভায়রা ও স্ত্রী) এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে আরও কয়েক লাখ টাকা সম্ভাব্য অনুদান পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ।
ফৌজদারি মামলা ও স্বচ্ছতা হলফনামার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ডা.
রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বর্তমানে বা অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন । তিনি কখনো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি, ফলে এটিই তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা ।
রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে একজন পরোপকারী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. রেজাউল করিম । পেশাগত দক্ষতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার কারণে ভোটারদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে এক ধরণের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পার্কভিউ হাসপাতালের সফল ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তাঁর এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নির্বাচনী ময়দানে তাঁকে কতটুকু এগিয়ে রাখে, তা দেখার অপেক্ষায় রাঙ্গুনিয়াবাসী।