ডিপি ওয়ার্ল্ডের বন্দর জাদু: পর্ব-২
কামরুল হাসান
দুবাই: লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার এবং এডেন উপসাগরের কৌশলগত উপকূলে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দর। অথচ এক দশক আগেও এই বন্দরটি ছিল আধুনিক বাণিজ্যের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন এক শান্ত ও স্থবির পোতাশ্রয়। সনাতন যন্ত্রপাতি, স্বল্প ড্রাফট এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর কাছে এটি ছিল চরম অবহেলিত। কিন্তু ২০১৭ সালে বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রায় ৪৪ কোটি ডলারের মেগা বিনিয়োগ ও পরিচালন চুক্তি নিয়ে যুক্ত হওয়ার পর পাল্টে যায় পুরো চিত্র।
চরম অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় ভোগা বারবেরা আজ হর্ন অব আফ্রিকার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল আন্তর্জাতিক গেটওয়ে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের দায়িত্ব গ্রহণের আগে বারবেরা বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা ছিল অত্যন্ত নাজুক। জাহাজে ক্রেন না থাকলে পণ্য নামানোর সুযোগ ছিল না এবং কি-সাইডে প্রতি ক্রেনে ঘণ্টায় গড়ে মাত্র ৮ থেকে ১০টি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা যেত। ডিপি ওয়ার্ল্ড সেখানে নতুন ৪০০ মিটারের আধুনিক কনটেইনার বার্থ, গভীর ড্রাফট এবং তিনটি সুউচ্চ শিপ-টু-শোর (STS) গ্যান্ট্রি ক্রেন স্থাপন করে। ফলে হ্যান্ডলিংয়ের গতি নাটকীয়ভাবে বেড়ে এখন প্রতি ক্রেনে ঘণ্টায় গড়ে ৫০ থেকে ৭৫টি কন্টেইনারে উন্নীত হয়েছে।
পূর্বে যেখানে একটি ছোট কন্টেইনার জাহাজ খালাস হতে কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ লেগে যেত, এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাহাজ আনলোড করে সমুদ্রে রওনা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সুফল কেবল স্থানীয় সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিস্তৃত হয়েছে স্থলবেষ্টিত প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইথিওপিয়া পর্যন্ত। বারবেরা বন্দরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘বারবেরা অর্থনৈতিক করিডোর’ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) অঞ্চলটির বাণিজ্যিক ভূরাজনীতি বদলে দিয়েছে।
বারবেরার দীর্ঘদিনের স্থানীয় কাস্টমস ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট আবদিরহমান জামা পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, আগে বার্থে জাহাজ ভেড়ার জন্য বহিনোঙরে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হতো। ইয়ার্ডে কন্টেইনার খুঁজে বের করা ছিল এক বিশাল ভোগান্তি। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ডের ডিজিটাল পোর্ট অপারেটিং সিস্টেম চালুর পর সব প্রক্রিয়া পেপারলেস হয়ে গেছে। এখন কন্টেইনার খালাস থেকে শুরু করে গেট আউট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ট্র্যাকিং করা যায় এবং সময় বাঁচায় সামগ্রিক পরিবহন খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বারবেরা বন্দরের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক বিনিয়োগ, আধুনিক অটোমেশন এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা কৌশল থাকলে পিছিয়ে পড়া যেকোনো উপকূলীয় বন্দরকে অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নির্ভরযোগ্য প্রাণকেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব।
ভিজিট করুন www.businesstoday24.com










