Home Second Lead আজ লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

আজ লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জট নিরসন এবং আন্তর্জাতিক মানে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল’ নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হচ্ছে। আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রকল্প সাইটে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
চুক্তি ও প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের মূল নির্মাণকাজের জন্য ৩ বছর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন শেষে ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের মধ্যকার ৩৩ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তিতে প্রথম ৩ বছর নির্মাণ ও বাকি ৩০ বছর টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বন্দর কর্তপক্ষ সূত্রে জানা গেছে,  ঐতিহাসিক এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বন্দর বিশেষজ্ঞদের মতে, লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পটি বাংলাদেশের সমুদ্রবাণিজ্য খাতে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ। ডেনমার্ক সরকারের সরাসরি সহযোগিতা ও বৈশ্বিক লজিস্টিকস জায়ান্টের যৌথ অংশীদারত্বে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। কোনো সরকারি তহবিল ব্যয় না করে শতভাগ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টার্মিনাল পরিচালনার আন্তর্জাতিক মডেল হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত এই টার্মিনালটি নির্মিত হবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় গ্রিন অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেইনার টার্মিনাল হিসেবে। এতে প্রায় ৬১৫ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা হবে, যার ফলে একসাথে একাধিক বৃহৎ কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে পারবে। টার্মিনালটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টিইইউএস । পণ্য ওঠানামা দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্ত করতে এখানে যুক্ত করা হচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির শোর-টু-শিপ গ্যান্ট্রি ক্রেন, বিশেষায়িত কনটেইনার ইয়ার্ড এবং অটোমেটেড গেট সিস্টেম। এছাড়া ভৌগোলিকভাবে টার্মিনালটি কর্ণফুলী নদীর মোহনা সংলগ্ন হওয়ায় এবং কর্ণফুলী টানেল ও সিটি আউটার রিং রোডের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকায় বন্দর থেকে সারা দেশে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততর হবে।
অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মোট সমুদ্রবাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ পরিচালনা করে। তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতের দ্রুত বিকাশ এবং কাঁচামাল আমদানির ব্যাপক চাপের কারণে প্রায়ই আউটার অ্যাঙ্করেজে জাহাজ জট সৃষ্টি হয়।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। ৬১৫ মিটার দীর্ঘ জেটিতে ভারী ড্রাফটের কনটেইনার জাহাজ সরাসরি বার্থিং নিতে পারবে, যা জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় (টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম) তিন থেকে চার দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় নামিয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লালদিয়া টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে এলে তা শুধু বন্দর পরিচালনার গতিই বাড়াবে না, বরং প্রতিবেশী অঞ্চলের আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার প্রসারে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।