বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মেহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগের সকল একাডেমিক দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের এমএ ২য় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মিমোর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে বিভাগ স্তব্ধ। এই ঘটনায় সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী গ্রেফতার ও জেলহাজতে পাঠানো হওয়ায় ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ একাডেমিক কমিটির সভায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি ক্লাস, পরীক্ষা কমিটিসহ কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
এদিকে, একই দিনে মিমোকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।
শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তার তীব্র বিরোধিতা করে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তদন্ত সূত্র
গত রোববার ভোরে উত্তর বাড্ডার একটি বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা জানান, মিমো সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমালেও সেদিন ভোরে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করার পর বাড্ডা থানায় মামলা করেন মিমোর বাবা। ওই দিন বিকেলেই রাজধানীর উদয় ম্যানসন এলাকা থেকে সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া এক সুইসাইড নোটে সুদীপ চক্রবর্তী ও উম্মে হানি নামের এক সহপাঠীর নাম পাওয়া গেছে। নোটে লেখা ছিল, “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে… আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…।”
সহপাঠীদের বক্তব্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েন
বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, মিমো অত্যন্ত সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ছিলেন। সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি বিভাগে আগে থেকেই আলোচিত ছিল। মিমো ও তার বান্ধবী উম্মে হানিকে নিয়ে সুদীপ চক্রবর্তী তার ব্যক্তিগত থিয়েটার গ্রুপের কাজে ইংল্যান্ড সফরেও গিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের ধারণা, ওই সফর থেকেই সম্পর্কের জটিলতা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে মিমোকে চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
ঘটনার সত্যতা ও গভীরতা যাচাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং মোবাইল স্ক্রিনশটসহ অন্যান্য আলামত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।