Home শিপিং বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ‘ডিজিটাল টুইন’ পোর্ট সিঙ্গাপুর

বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ‘ডিজিটাল টুইন’ পোর্ট সিঙ্গাপুর

শিপিং ডেস্ক: সিঙ্গাপুর বন্দর বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ‘ডিজিটাল টুইন’ পোর্ট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্য এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব ঘটিয়েছে। মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ সিঙ্গাপুর (MPA) এর বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে,  এই ডিজিটাল টুইন মূলত বন্দরের একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ভার্চুয়াল মডেল, যা বাস্তব সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের প্রতিটি ক্রেন, জাহাজ এবং কন্টেইনারের গতিবিধি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের সবচেয়ে স্মার্ট ও দক্ষ সমুদ্রবন্দরের তালিকায় শীর্ষস্থানে ধরে রেখেছে।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমস-এর বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, সিঙ্গাপুরের নবনির্মিত তুয়াস পোর্ট (Tuas Port) এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। এখানে ব্যবহৃত ডিজিটাল টুইন সিস্টেমটি কেবল একটি মানচিত্র নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত জটিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নেটওয়ার্ক। এই সংবাদমাধ্যমের মতে, ২০৪০ সালের মধ্যে তুয়াস পোর্টের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হলে এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম একক স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল, যার বার্ষিক পণ্য খালাসের ক্ষমতা হবে ৬৫ মিলিয়ন টিইইউ (TEUs)।
বর্তমানে এই বন্দরের প্রতিটি স্বয়ংক্রিয় গাইডেড যান (AGV) এবং ইয়ার্ড ক্রেন কোনো মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই ডিজিটাল টুইন থেকে পাওয়া কমান্ড অনুযায়ী নিখুঁতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড কার্গো নিউজ তাদের সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছে যে, লজিস্টিক ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এক ধরনের ‘এক্স-রে ভিশন’ হিসেবে কাজ করছে। আগে যেখানে একটি কন্টেইনারের অবস্থান বা জাহাজের ডকিংয়ের সময় নির্ধারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকত, এখন ডিজিটাল টুইনের রিয়েল-টাইম ডেটা ফিডের মাধ্যমে তা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
এই সিস্টেমে ব্যবহৃত ‘প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিক্স’ বা ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ পদ্ধতি বন্দরে পণ্য জট হওয়ার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগেই সংকেত পাঠিয়ে দেয়। ফলে লজিস্টিক চেইন ম্যানেজমেন্টে কোনো ধরনের বিচ্যুতি ঘটার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে সিঙ্গাপুরের এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সিনহুয়া জানায়, সিঙ্গাপুর বন্দরের এই সফল মডেল দেখে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দর এবং নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দরের মতো বড় কেন্দ্রগুলো তাদের নিজস্ব অবকাঠামোকে ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য সিঙ্গাপুরের সাথে কারিগরি সহায়তার চুক্তি করছে।
এছাড়া এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে বন্দরের অপারেশনাল দক্ষতা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে এটি একটি গ্রিন-পোর্ট বা পরিবেশবান্ধব বন্দরে রূপান্তরিত হয়েছে।
মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ সাময়িকীর তথ্য অনুযায়ী, এই ডিজিটাল টুইন সিস্টেমটি সাইবার নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও অত্যন্ত শক্তিশালী। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগের ক্ষেত্রে বন্দর কীভাবে কাজ করবে, তার হাজার হাজার সিমুলেশন এই ভার্চুয়াল মডেলে চালানো হয়।
ফলে যেকোনো বাস্তব সংকটে বন্দরের কার্যক্রম স্থবির না হয়ে বিকল্প উপায়ে সচল রাখার কৌশল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। এই নিরবচ্ছিন্ন লজিস্টিক সেবার কারণেই বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে সিঙ্গাপুর এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে।
আমাদের নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন