বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব (4IR) আমাদের জীবনযাপন, কাজ এবং শেখার পদ্ধতিতে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসছে । কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বিগ ডেটা, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) এবং অটোমেশনের মতো স্মার্ট প্রযুক্তিগুলো এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি । এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে এবং ‘স্মার্ট ফিউচার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বুদ্ধিদীপ্ত রূপান্তর ঘটানো এখন সময়ের দাবি ।
শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর ও দক্ষতার উন্নয়ন:ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে সফল হতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য মুখস্থ করার প্রথাগত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । এর পরিবর্তে প্রয়োজন ট্রান্সভার্সাল দক্ষতা: সমালোচনামূলক চিন্তা (Critical Thinking), সৃজনশীলতা, জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং সহমর্মিতা (Empathy) গড়ে তোলা অপরিহার্য ।
SEEING–DOING–LEARNING: শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে, হাতে-কলমে যুক্ত হতে পারে এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারে—এমন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে ।
বহুবিষয়ক শিক্ষা: বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বোচ্চ মানবকল্যাণে নিশ্চিত করা যায় ।
স্মার্ট সিটি ও স্মার্ট ভিলেজ গঠনের লক্ষ্য:সরকার একটি ডিজিটালি সক্ষম এবং টেকসই দেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘স্মার্ট সিটি’ এবং ‘স্মার্ট ভিলেজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে । এই মিশনের চারটি মূল স্তম্ভ হলো—স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি এবং স্মার্ট সমাজ । যেখানে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, ইউটিলিটিজ এবং কৃষি খাতে প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে ।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ঝুঁকি ও প্রস্তুতি:ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যমতে, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে থাকতে পারে । বাংলাদেশেও এই প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তির অভাবে প্রায় ৫.৭ মিলিয়ন কম-দক্ষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়তে পারে । এই ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘আউটকাম-বেইজড এডুকেশন’ (OBE)-নির্ভর পদ্ধতিতে রূপান্তর করা জরুরি ।
স্মার্ট ফিউচার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারকে শুধু প্রযুক্তির দিকে নয়, বরং নাগরিকদের স্মার্ট চিন্তা ও সংস্কৃতি গড়ে তোলার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে । প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পরিকল্পিত বিনিয়োগ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক ও বৈষম্যহীন উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব ।
মূল নিবন্ধ লেখক: ১. মিজানুল এইচ চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা, STEMX365 এবং বিজ্ঞানী, MIT Zero Robotics, USA । ২. প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর (VC), CUET, RUET ও USTC ।
এ ধরনের আরও আপডেট পেতে ফলো করুন ও মন্তব্য করে আপনার মতামত জানান: businesstoday24.com